১৪/১৫. অধ্যায়ঃ
অবৈধ নয় এমন কাজে রমাযান মাসে সফরকারী ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা এবং ইফত্বার করা উভয়ই জায়িয যদি দু’ বা ততোধিক মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সফর করা হয়, অবশ্য ক্ষমতাবান ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা উত্তম এবং অক্ষম ব্যক্তির জন্য সওম ভঙ্গ করা উত্তম
রমজানে সফরে সাওম: নিন্দা নয়, সহজতা
সহিহ মুসলিম : ২৫১০
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৫১০
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، قَالَ سُئِلَ أَنَسٌ - رضى الله عنه - عَنْ صَوْمِ رَمَضَانَ فِي السَّفَرِ فَقَالَ سَافَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَلَمْ يَعِبِ الصَّائِمُ عَلَى الْمُفْطِرِ وَلاَ الْمُفْطِرُ عَلَى الصَّائِمِ .
হুমায়দ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রমজান মাসে সফরকালে সাওমের বিধান কী? এ সম্বন্ধে আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করার পর তিনি বললেন, রমজান মাসে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর সাথে সফর করেছি। এ সময় সাওম পালনকারী ব্যক্তি সাওম ভঙ্গকারী ব্যক্তির কোন নিন্দা করেনি এবং সাওম ভঙ্গকারী ব্যক্তিও সাওম পালনকারীর কোন নিন্দা করেনি।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৪৮৭, ইসলামীক সেন্টারঃ ২৪৮৬
সহিহ মুসলিম হাদিস ২৫১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ)-কে রমজান মাসে সফরকালে সাওমের বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি উত্তর দেন, তারা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সাথে রমজানে সফর করেছেন। তখন সাওম পালনকারী ব্যক্তি সাওম ভঙ্গকারী ব্যক্তির নিন্দা করেননি, আর সাওম ভঙ্গকারীও সাওম পালনকারীর নিন্দা করেননি। এই বক্তব্যে সফরে সাওমের বিষয়ে নবীজির সাহাবীদের বাস্তব আমল স্পষ্ট হয়। এখানে মূল বিষয় হলো: নিজের অবস্থার ভিত্তিতে আমল করা এবং অন্যকে দোষ না দেওয়া। সফরে কষ্ট, গরম, দুর্বলতা বা শক্তি—এসব মানুষের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে। তাই সবাইকে এক মাপে বিচার না করে নরম মন নিয়ে দেখা দরকার। রমজানে সফরে রোজা রাখা নিয়ে যারা চিন্তিত হন, এই হাদিস তাদের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফরে সাওমের বিষয়ে সাহাবীদের আচরণ ছিল নরম ও সহনশীল।
- নিজে সাওম রাখলেও অন্যকে নিন্দা করা ঠিক নয়।
- সাওম না রাখলেও সাওম পালনকারীকে খারাপ মনে করা উচিত নয়।
