১৪/১১. অধ্যায়ঃ
সওমে বিসাল বা বিরতিহীনভাবে সওম পালন করা নিষিদ্ধ
রমজানে সালাত ও সাওমে বিসালের সীমা
সহীহ মুসলিম : ২৪৬০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৪৬০
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، - رضى الله عنه - قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي رَمَضَانَ فَجِئْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ وَجَاءَ رَجُلٌ آخَرُ فَقَامَ أَيْضًا حَتَّى كُنَّا رَهْطًا فَلَمَّا حَسَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنَّا خَلْفَهُ جَعَلَ يَتَجَوَّزُ فِي الصَّلاَةِ ثُمَّ دَخَلَ رَحْلَهُ فَصَلَّى صَلاَةً لاَ يُصَلِّيهَا عِنْدَنَا . قَالَ قُلْنَا لَهُ حِينَ أَصْبَحْنَا أَفَطِنْتَ لَنَا اللَّيْلَةَ قَالَ فَقَالَ " نَعَمْ ذَاكَ الَّذِي حَمَلَنِي عَلَى الَّذِي صَنَعْتُ " . قَالَ فَأَخَذَ يُوَاصِلُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَذَاكَ فِي آخِرِ الشَّهْرِ فَأَخَذَ رِجَالٌ مِنْ أَصْحَابِهِ يُوَاصِلُونَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " مَا بَالُ رِجَالٍ يُواصِلُونَ إِنَّكُمْ لَسْتُمْ مِثْلِي أَمَا وَاللَّهِ لَوْ تَمَادَّ لِيَ الشَّهْرُ لَوَاصَلْتُ وِصَالاً يَدَعُ الْمُتَعَمِّقُونَ تَعَمُّقَهُمْ " .>
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রমযান মাসে একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করছিলেন। আমি তাঁর পাশে এসে দাঁড়ালাম। এরপর অন্য এক ব্যক্তি এসেও তাঁর পাশে দাঁড়ালেন। এভাবে আমরা এক দল লোক হয়ে গেলাম। এরপর নবী (ﷺ) যখন বুঝতে পারলেন যে, আমরা তাঁর পেছনে আছি, তখন তিনি সালাত সংক্ষেপ করে ফেললেন।তারপর তিনি আপন গৃহে চলে গেলেন এবং এমন (দীর্ঘ) সালাত আদায় করলেন যে, এভাবে তিনি আমাদের সাথে সালাত আদায় করতেন না। সকালে আমরা তাঁকে বললাম, রাত্রে আপনি আমাদের সম্পর্কে বুঝতে পেরেছিলেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাই তো আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে ঐ কাজের, যা আমি করেছি।এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযানের শেষভাগে আবার সাওমে বিসাল করতে আরম্ভ করলেন। এ দেখে কতিপয় সাহাবীও সাওমে বিসাল শুরু করলেন। তখন নবী (ﷺ) বললেন, “লোকদের কী হল, তারা যে সাওমে বিসাল আরম্ভ করেছে! তোমরা আমার মত নও। আল্লাহর শপথ! যদি মাস দীর্ঘায়িত হতো, তবে আমি এমনভাবে সাওমে বিসাল করতাম যার ফলে সীমালঙ্ঘনকারীগণ সাওমে বিসাল করা ছেড়ে দিত।”
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৪৩৭, ইসলামীক সেন্টারঃ ২৪৩৬
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৪৬০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুইটি বিষয় এসেছে: রমজানের রাতের সালাত এবং সাওমে বিসাল। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم রমজানে সালাত আদায় করছিলেন। তিনি ও আরেকজন এসে দাঁড়ালে এক দল হয়ে যায়। নবী صلى الله عليه وسلم বুঝতে পেরে সালাত সংক্ষেপ করেন, তারপর ঘরে গিয়ে এমন দীর্ঘ সালাত আদায় করেন যা তাঁদের সঙ্গে করতেন না। সকালে তিনি জানান, তাঁদের উপস্থিতি বুঝেছিলেন বলেই এমন করেছেন। পরে রমজানের শেষভাগে তিনি সাওমে বিসাল করলেন। কিছু সাহাবীও তা শুরু করলে তিনি বলেন, তোমরা আমার মতো নও। যদি মাস দীর্ঘ হতো, তিনি এমন বিসাল করতেন যাতে অতিরিক্ত কঠোরতাকারীরা তা ছেড়ে দিত। এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم-এর দয়া, উম্মতের সামর্থ্য বিবেচনা এবং ইবাদতে সীমা মানার শিক্ষা স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم সাহাবীদের উপস্থিতি বুঝে সালাত সংক্ষেপ করেছেন।
- তিনি ঘরে গিয়ে দীর্ঘ সালাত আদায় করেছেন, কিন্তু সবার ওপর তা চাপাননি।
- সাওমে বিসাল সাধারণ মানুষের জন্য অনুসরণীয়ভাবে চালু করা হয়নি।
- ইবাদতে অতিরিক্ত কঠোরতা থেকে সতর্ক থাকার শিক্ষা আছে।
