১৪/৯. অধ্যায়ঃ
সাহরীর ফাযীলাত, সাহরী খাওয়া মুস্তাহাব, এর প্রতি গুরুত্বারোপ এবং সাহরী বিলম্বে খাওয়া ও ইফত্বার তাড়াতাড়ি করা মুস্তাহাব
ইফতারে ত্বরা: রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর অনুসৃত আমল
সহিহ মুসলিম : ২৪৪৭
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৪৪৭
وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي عَطِيَّةَ، قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَمَسْرُوقٌ، عَلَى عَائِشَةَ - رضى الله عنها - فَقَالَ لَهَا مَسْرُوقٌ رَجُلاَنِ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم كِلاَهُمَا لاَ يَأْلُو عَنِ الْخَيْرِ أَحَدُهُمَا يُعَجِّلُ الْمَغْرِبَ وَالإِفْطَارَ وَالآخَرُ يُؤَخِّرُ الْمَغْرِبَ وَالإِفْطَارَ . فَقَالَتْ مَنْ يُعَجِّلُ الْمَغْرِبَ وَالإِفْطَارَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ . فَقَالَتْ هَكَذَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُ .
আবূ ‘আতিয়্যাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ও মাসরূক আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। এরপর মাসরূক তাঁকে বললেন, মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবীদের মধ্যে দুইজন ব্যক্তি যারা কল্যাণজনক কাজে কোন প্রকার অবহেলা প্রদর্শন করেন না, তাঁদের একজন মাগরিব এবং ইফতারের মধ্যে ত্বরা করেন। আর অপরজন মাগরিব ও ইফতারে বিলম্ব করেন।তিনি বললেন, কোন ব্যক্তি সে মাগরিব ও ইফতারে ত্বরা করেন? তিনি বললেন, তিনি আবদুল্লাহ। তখন আয়িশা (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপই করতেন।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৪২৪, ইসলামীক সেন্টারঃ ২৪২৩
সহিহ মুসলিম হাদিস ২৪৪৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মাগরিব ও ইফতারের সময় নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এসেছে। মাসরূক (রহ.) আয়িশা (রাঃ)-কে জানান যে, সাহাবীদের দুইজনই কল্যাণে আগ্রহী; তবে একজন মাগরিব ও ইফতারে ত্বরা করেন, আর অন্যজন বিলম্ব করেন। আয়িশা (রাঃ) জানতে চান, কে ত্বরা করেন। যখন বলা হলো তিনি আবদুল্লাহ, তখন তিনি জানান, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এরূপই করতেন। এখান থেকে বোঝা যায়, সূর্য ডোবার পর ইফতারে দেরি না করা নববী আমলের সাথে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে হাদিসটি দেখায়, কোনো বিষয়ে মতভেদ হলে সাহাবীরা রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর আমল জানার জন্য জ্ঞানীদের কাছে ফিরে যেতেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো: ইফতারের সময় হলে অযথা বিলম্ব নয়, বরং নবী صلى الله عليه وسلم-এর অনুসরণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূর্য ডোবার পর ইফতার ও মাগরিবে ত্বরা করা নববী আমলের সাথে মিল রাখে।
- সাহাবীরা কল্যাণের কাজে আগ্রহী ছিলেন, কিন্তু আমলের সঠিক পদ্ধতি জানতে চাইতেন।
- ইবাদতের বিষয়ে রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর বাস্তব আমল অনুসরণযোগ্য।
- ইফতারের সময় হলে অকারণে বিলম্ব করা থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
