১৪/৮. অধ্যায়ঃ
সুবহে সাদিকের পূর্বে পানাহার করা বৈধ, তবে সুবহে সাদিকের সাথে সাথেই সওম আরম্ভ হয়ে যায়, কুরআনে বর্ণিত ‘ফাজ্র’ শব্দের অর্থ হচ্ছে সুব্হি সাদিক, এ সময় হতেই সওম আরম্ভ হয় এবং ফাজ্বরের সলাতের সময় শুরু হয়, সওমের বিধি-বিধানের সাথে সুব্হি কাযিবের কোন সম্পর্ক নেই
শুভ্র রেখা দেখে সাহরি বন্ধ করা যাবে কি
সহিহ মুসলিম : ২৪৩৪
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৪৩৪
حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَوَادَةَ الْقُشَيْرِيِّ حَدَّثَنِي وَالِدِي أَنَّهُ سَمِعَ سَمُرَةَ بْنَ جُنْدَبٍ يَقُولُ سَمِعْتُ مُحَمَّدًا ﷺ يَقُولُ لاَ يَغُرَّنَّ أَحَدَكُمْ نِدَاءُ بِلاَلٍ مِنَ السَّحُورِ وَلاَ هَذَا الْبَيَاضُ حَتَّى يَسْتَطِيرَ.
সামুরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘বিলালের আহ্বান যেন তোমাদেরকে সাহরি খাওয়া থেকে ধোঁকায় না ফেলে এবং এ শুভ্র রেখাও; যতক্ষণ পর্যন্ত তা বিস্তৃত হয়ে প্রতিভাত হয়।’
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৪১১, ইসলামীক সেন্টারঃ ২৪১১
সহিহ মুসলিম হাদিস ২৪৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সতর্ক করেছেন—বিলালের আহ্বান কিংবা আকাশের একটি শুভ্র রেখা যেন সাহরি খাওয়া থেকে কাউকে ধোঁকায় না ফেলে। অর্থাৎ শুধু রাতের আযান বা সরু আলো দেখেই সাহরি বন্ধ করার কথা নয়। আলো যখন বিস্তৃত হয়ে প্রকাশ পায়, তখন ফজরের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এই হাদিস রোজাদারের জন্য খুব বাস্তব শিক্ষা দেয়। অনেক সময় মানুষ ভোরের প্রথম আলো দেখেই ভয় পায় বা তাড়াহুড়া করে। কিন্তু নবীজির নির্দেশনা হলো স্পষ্ট আলামত দেখে কাজ করা। এতে সাহরি সময়, সুবহে সাদিক, ফজরের আলো এবং রোজা শুরু করার সময় সম্পর্কে ভারসাম্যপূর্ণ ধারণা তৈরি হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিলালের আহ্বান শুনে সাহরি বন্ধ করার নির্দেশ নেই।
- সরু শুভ্র রেখা ফজরের স্পষ্ট আলামত নয়।
- আলো বিস্তৃত হওয়া ফজর বোঝার গুরুত্বপূর্ণ দিক।
- রোজাদারের উচিত ধোঁকা বা তাড়াহুড়া এড়িয়ে চলা।
