১৩/৪৬. অধ্যায়ঃ
ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য মুয়াল্লিফাতে কুলুবকে দান করা এবং দৃঢ় ঈমানের অধিকারীকে না দেয়া প্রসঙ্গে
গনীমাত বণ্টন ও মুআল্লাফাতুল কুলুবের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ২৩৩৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৩৩৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبَايَةَ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، قَالَ أَعْطَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبَا سُفْيَانَ بْنَ حَرْبٍ وَصَفْوَانَ بْنَ أُمَيَّةَ وَعُيَيْنَةَ بْنَ حِصْنٍ وَالأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ كُلَّ إِنْسَانٍ مِنْهُمْ مِائَةً مِنَ الإِبِلِ وَأَعْطَى عَبَّاسَ بْنَ مِرْدَاسٍ دُونَ ذَلِكَ . فَقَالَ عَبَّاسُ بْنُ مِرْدَاسٍ أَتَجْعَلُ نَهْبِي وَنَهْبَ الْعُبَيْدِ بَيْنَ عُيَيْنَةَ وَالأَقْرَعِ فَمَا كَانَ بَدْرٌ وَلاَ حَابِسٌ يَفُوقَانِ مِرْدَاسَ فِي الْمَجْمَعِ وَمَا كُنْتُ دُونَ امْرِئٍ مِنْهُمَا وَمَنْ تَخْفِضِ الْيَوْمَ لاَ يُرْفَعِ قَالَ فَأَتَمَّ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِائَةً .
রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু সুফিয়ান ইবন হারব, সফওয়ান ইবন উমাইয়া, উয়াইনাহ ইবন হিসন ও আকরা ইবন হাবিসকে একশটি করে উট দিলেন এবং আব্বাস ইবন মিরদাসকে এদের চেয়ে কিছু কম দিলেন। তখন মিরদাস এ কবিতা পাঠ করলেনঃআপনি কি আমার ও আমার উবায়দ নামক ঘোড়াটির অংশ উয়াইনাহ ও আকরা-কে প্রদত্ত অংশের মাঝামাঝি নির্ধারণ করেছেন? বস্তুতঃ উয়াইনাহ এবং আকরা উভয়ই সমাজ ও সমাবেশে মিরদাসের চেয়ে অধিক অগ্রসর হতে বা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারে না। আর প্রতিযোগিতায় আমি তাদের দু’জনের তুলনায় পিছিয়ে নেই। আজ যে অনগ্রসর ও হীন বলে গণ্য হবে সে আর ঊর্ধ্বে উঠতে সক্ষম হবে না।বর্ণনাকারী বলেন, এ কবিতা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার উটের সংখ্যাও একশ পূর্ণ করে দিলেন।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৩১১, ইসলামীক সেন্টারঃ ২৩১২
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর গনীমাত বণ্টনের একটি ঘটনা এসেছে। তিনি আবু সুফিয়ান, সফওয়ান, উয়াইনাহ ও আকরা ইবন হাবিসকে একশটি করে উট দেন। আব্বাস ইবন মিরদাসকে তাঁদের চেয়ে কম দেওয়া হলে তিনি কবিতার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর কথায় বোঝা যায়, তিনি নিজেকে অন্যদের তুলনায় কম মর্যাদার মনে করতে চাননি। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর বক্তব্য শুনে তাঁর উটের সংখ্যাও একশ পূর্ণ করে দেন। এই হাদিসে গনীমাত বণ্টন, মানুষের মন বোঝা এবং অভিযোগের জবাবে নরম সমাধানের শিক্ষা আছে। এখানে মূল বিষয় হলো, সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে নবী (صلى الله عليه وسلم) মানুষের অবস্থা ও মনোভাব বিবেচনা করতেন, তবে বর্ণনার বাইরে কোনো অতিরিক্ত দাবি করা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم) গনীমাত বণ্টনে মানুষের অবস্থাও বিবেচনা করতেন।
- অভিযোগ বা কষ্ট প্রকাশ হলে তা শান্তভাবে সমাধান করা যায়।
- আব্বাস ইবন মিরদাসের অংশ পূর্ণ করে দেওয়া কোমল নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত।
- দুনিয়ার সম্পদ নিয়ে মানুষের মনে মর্যাদাবোধের প্রশ্ন উঠতে পারে।
