১৩/৪৬. অধ্যায়ঃ
ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য মুয়াল্লিফাতে কুলুবকে দান করা এবং দৃঢ় ঈমানের অধিকারীকে না দেয়া প্রসঙ্গে
আনসারদের প্রতি নবীজির ভালোবাসা ও দুনিয়ার সম্পদ
সহীহ মুসলিম : ২৩২৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৩২৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ جَمَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الأَنْصَارَ فَقَالَ " أَفِيكُمْ أَحَدٌ مِنْ غَيْرِكُمْ " . فَقَالُوا لاَ إِلاَّ ابْنُ أُخْتٍ لَنَا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ ابْنَ أُخْتِ الْقَوْمِ مِنْهُمْ " . فَقَالَ " إِنَّ قُرَيْشًا حَدِيثُ عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ وَمُصِيبَةٍ وَإِنِّي أَرَدْتُ أَنْ أَجْبُرَهُمْ وَأَتَأَلَّفَهُمْ أَمَا تَرْضَوْنَ أَنْ يَرْجِعَ النَّاسُ بِالدُّنْيَا وَتَرْجِعُونَ بِرَسُولِ اللَّهِ إِلَى بُيُوتِكُمْ لَوْ سَلَكَ النَّاسُ وَادِيًا وَسَلَكَ الأَنْصَارُ شِعْبًا لَسَلَكْتُ شِعْبَ الأَنْصَارِ " .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারদের এক স্থানে সমবেত করে বললেন: তোমরা অর্থাৎ আনসারগণ ছাড়া অন্য কেউ এখানে আছে কি? তারা (আনসারগণ) বললেন, না। তবে আমাদের এ ভাগ্নে এখানে উপস্থিত আছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বোনের ছেলে বা ভাগ্নে (মাতুল) গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।অতঃপর তিনি বললেন: কুরাইশরা কেবলমাত্র জাহিলিয়্যাত পরিত্যাগ করেছে এবং সবেমাত্র বিপদ থেকে মুক্তি পেয়েছে। তাই আমি তাদের সান্ত্বনা দিতে ও তাদের অন্তরকে আকৃষ্ট করতে চেয়েছি। তোমরা কি সন্তুষ্ট নও যে, মানুষ দুনিয়া নিয়ে ফিরে যাক, আর তোমরা আল্লাহর রসূলকে নিয়ে ঘরে প্রত্যাবর্তন কর? তোমাদের সাথে আমার ভালবাসা ও হৃদ্যতার স্বরূপ এই যে, দুনিয়ার সব লোক যদি উপত্যকার দিকে ছুটে আর আনসারগণ যদি কোন গিরিপথে যায় তাহলে আমি আনসারদের গিরিপথেই যাবো (তাদের সাথেই থাকব)।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২৩০৭, ইসলামীক সেন্টারঃ ২৩০৮
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আনসারদের এক স্থানে সমবেত করেন এবং তাঁদের সঙ্গে খুব আন্তরিকভাবে কথা বলেন। তিনি জানান, কুরাইশরা নতুনভাবে জাহিলিয়্যাত ছেড়েছে এবং বিপদ থেকে মাত্র বের হয়েছে; তাই তাদের মন শান্ত করা ও ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করার জন্য তিনি সম্পদ দিয়েছেন। এরপর তিনি আনসারদের সামনে এক গভীর প্রশ্ন রাখেন—মানুষ দুনিয়া নিয়ে ফিরে যাক, আর তোমরা আল্লাহর রাসূলকে নিয়ে ঘরে ফিরবে—এতে কি তোমরা সন্তুষ্ট নও? এই কথায় দুনিয়ার সম্পদের চেয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গের মর্যাদা স্পষ্ট হয়। “ভাগ্নে গোত্রের অন্তর্ভুক্ত” কথাটিও আত্মীয়তার সম্মান দেখায়। হাদিসটি আনসারদের মর্যাদা, নবীজির ভালোবাসা এবং নেতৃত্বের কোমল পদ্ধতির বড় শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم) মানুষের অন্তর জয়ের জন্য হিকমতপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেন।
- দুনিয়ার সম্পদের চেয়ে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গ বড় সম্মানের বিষয়।
- আত্মীয়তার সম্পর্ককে সম্মান দেওয়া ইসলামের সুন্দর শিক্ষা।
- নেতা ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে সরাসরি ও কোমলভাবে কথা বলতে পারেন।
