১৩/৩৬. অধ্যায়ঃ
ভিক্ষা করা যার জন্য জায়িয
কার জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ
সহীহ মুসলিম : ২২৯৪
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২২৯৪
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، كِلاَهُمَا عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ هَارُونَ بْنِ رِيَابٍ، حَدَّثَنِي كِنَانَةُ بْنُ نُعَيْمٍ الْعَدَوِيُّ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ، مُخَارِقٍ الْهِلاَلِيِّ قَالَ تَحَمَّلْتُ حَمَالَةً فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَسْأَلُهُ فِيهَا فَقَالَ " أَقِمْ حَتَّى تَأْتِيَنَا الصَّدَقَةُ فَنَأْمُرَ لَكَ بِهَا " . قَالَ ثُمَّ قَالَ " يَا قَبِيصَةُ إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لاَ تَحِلُّ إِلاَّ لأَحَدِ ثَلاَثَةٍ رَجُلٍ تَحَمَّلَ حَمَالَةً فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَهَا ثُمَّ يُمْسِكُ وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ اجْتَاحَتْ مَالَهُ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ - أَوْ قَالَ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ - وَرَجُلٍ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ حَتَّى يَقُومَ ثَلاَثَةٌ مِنْ ذَوِي الْحِجَا مِنْ قَوْمِهِ لَقَدْ أَصَابَتْ فُلاَنًا فَاقَةٌ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ - أَوْ قَالَ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ - فَمَا سِوَاهُنَّ مِنَ الْمَسْأَلَةِ يَا قَبِيصَةُ سُحْتًا يَأْكُلُهَا صَاحِبُهَا سُحْتًا " .
ক্ববীসাহ্ ইবনু মুখারিক্ব আল হিলালী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার আমি (দেনার জামিন হয়ে) বিরাট অঙ্কের ঋণী হয়ে পড়লাম। কাজেই আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে এজন্য তাঁর নিকট চাইলাম। তিনি বললেন, “যাকাত বা সদাকার মাল আসা পর্যন্ত আমার কাছে অপেক্ষা কর। তা এসে গেলে আমি তোমাকে তা থেকে দিতে নির্দেশ দিব।”বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি বললেনঃ “হে কাবিসা! মনে রেখো, তিন ব্যক্তি ছাড়া কারো জন্য হাত পাতা বা সাহায্য প্রার্থনা করা হালাল নয়। (১) যে ব্যক্তি (কোনো ভাল কাজ করতে গিয়ে বা দেনার জামিন হয়ে) ঋণী হয়ে পড়েছে। ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত সাহায্য প্রার্থনা করা তার জন্য হালাল। যখন দেনা পরিশোধ হয়ে যাবে তখন সে এ থেকে বিরত থাকবে।(২) যে ব্যক্তি প্রাকৃতিক দুর্যোগে পতিত হয়েছে এবং এতে তার যাবতীয় সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে। তার জন্য সাহায্য চাওয়া হালাল যতক্ষণ না তার জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হয়। রাবীর সন্দেহ- তিনি কি ‘কিয়াম’ শব্দ বলেছেন না ‘সিদাদ’ শব্দ বলেছেন? (উভয় শব্দের অর্থ একই)।(৩) যে ব্যক্তি এমন অভাবগ্রস্ত হয়েছে যে, তার গোত্রের তিনজন জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন লোক সাক্ষ্য দেয় যে, “সত্যিই অমুক অভাবে পড়েছে” তার জন্য জীবিকা নির্বাহের পরিমাণ সম্পদ লাভ করার পূর্ব পর্যন্ত সাহায্য প্রার্থনা করা হালাল। হে কাবিসা! এ তিন প্রকার লোক ছাড়া আর সকলের জন্য সাহায্য চাওয়া হারাম। অতএব এ তিন প্রকার লোক ছাড়া যে সব লোক সাহায্য চেয়ে বেড়ায় তারা হারাম খায়।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২২৭২, ইসলামীক সেন্টারঃ ২২৭৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ২২৯৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহায্য চাওয়া বা মানুষের কাছে হাত পাতার সীমা স্পষ্ট করেছেন। কাবিসা (রাঃ) ঋণের দায়ে পড়ে সাহায্য চাইতে এলে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাকে অপেক্ষা করতে বলেন। এরপর তিনি বলেন, তিন ধরনের মানুষ ছাড়া কারো জন্য সাহায্য চাওয়া হালাল নয়। প্রথমত, যে ব্যক্তি কোনো দায় বা জামিনের কারণে ঋণগ্রস্ত হয়েছে; ঋণ পরিশোধ পর্যন্ত সে চাইতে পারে। দ্বিতীয়ত, যার সম্পদ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধ্বংস হয়েছে; প্রয়োজনীয় জীবিকা পর্যন্ত সে চাইতে পারে। তৃতীয়ত, যার অভাব তার গোত্রের তিনজন জ্ঞানী ব্যক্তি সাক্ষ্য দিয়ে নিশ্চিত করে; জীবিকার প্রয়োজন পূরণ হওয়া পর্যন্ত সে চাইতে পারে। এই হাদিস ভিক্ষা হারাম কখন এবং সাহায্য চাওয়া বৈধ কখন—এ বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহায্য চাওয়ার ক্ষেত্র সীমাহীন নয়; এর বৈধ কারণ আছে।
- ঋণ, দুর্যোগে সম্পদহানি ও প্রমাণিত অভাব—এই তিন অবস্থায় ছাড় আছে।
- প্রয়োজন পূরণ হলে সাহায্য চাওয়া বন্ধ করা উচিত।
- অকারণে সাহায্য চেয়ে বেড়ানো হারাম খাবারের কারণ হতে পারে।
