১৩/২০. অধ্যায়ঃ
দানের জন্য উদ্বুদ্ধ করা যদিও তা এক টুকরা খেজুর বা ভালো কথা বলার মাধ্যমে হয়, সদাক্বাহ্ জাহান্নামের অগ্নি থেকে হিফাযাতকারী
উত্তম প্রথা চালু করা ও দানের সওয়াব
সহিহ মুসলিম : ২২৪১
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২২৪১
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى الْعَنَزِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَوْنِ، بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ عَنِ الْمُنْذِرِ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَدْرِ النَّهَارِ قَالَ فَجَاءَهُ قَوْمٌ حُفَاةٌ عُرَاةٌ مُجْتَابِي النِّمَارِ أَوِ الْعَبَاءِ مُتَقَلِّدِي السُّيُوفِ عَامَّتُهُمْ مِنْ مُضَرَ بَلْ كُلُّهُمْ مِنْ مُضَرَ فَتَمَعَّرَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِمَا رَأَى بِهِمْ مِنَ الْفَاقَةِ فَدَخَلَ ثُمَّ خَرَجَ فَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَذَّنَ وَأَقَامَ فَصَلَّى ثُمَّ خَطَبَ فَقَالَ " { يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ} إِلَى آخِرِ الآيَةِ { إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} وَالآيَةَ الَّتِي فِي الْحَشْرِ { اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ} تَصَدَّقَ رَجُلٌ مِنْ دِينَارِهِ مِنْ دِرْهَمِهِ مِنْ ثَوْبِهِ مِنْ صَاعِ بُرِّهِ مِنْ صَاعِ تَمْرِهِ - حَتَّى قَالَ - وَلَوْ بِشِقِّ تَمْرَةٍ " . قَالَ فَجَاءَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ بِصُرَّةٍ كَادَتْ كَفُّهُ تَعْجِزُ عَنْهَا بَلْ قَدْ عَجَزَتْ - قَالَ - ثُمَّ تَتَابَعَ النَّاسُ حَتَّى رَأَيْتُ كَوْمَيْنِ مِنْ طَعَامٍ وَثِيَابٍ حَتَّى رَأَيْتُ وَجْهَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَهَلَّلُ كَأَنَّهُ مُذْهَبَةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سَنَّ فِي الإِسْلاَمِ سُنَّةً حَسَنَةً فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا بَعْدَهُ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَىْءٌ وَمَنْ سَنَّ فِي الإِسْلاَمِ سُنَّةً سَيِّئَةً كَانَ عَلَيْهِ وِزْرُهَا وَوِزْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَىْءٌ " .
মুনযির ইবনু জারীর থেকে তাঁর পিতার সূত্র হতে বর্ণিতঃ
আমরা ভোরের দিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় তাঁর কাছে পাদুকা বিহীন, বস্ত্রহীন, গলার চামড়ার আবা পরিহিত এবং নিজেদের তরবারি ঝুলন্ত অবস্থায় একদল লোক আসল। এদের অধিকাংশ কিংবা সকলেই মুজার গোত্রের লোক ছিল। অভাব অনটনে তাদের এ করুণ অবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মুখমণ্ডল পরিবর্তিত ও বিষন্ন হয়ে গেল। তিনি ভিতরে প্রবেশ করলেন, অতঃপর বেরিয়ে আসলেন। তিনি বিলাল (রাঃ)-কে আজান দিতে নির্দেশ দিলেন। বিলাল (রাঃ) আজান ও ইকামত দিলেন। সালাত শেষ করে তিনি উপস্থিত মুসল্লীদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন এবং এ আয়াত পাঠ করলেনঃ “হে মানব জাতি! তোমরা নিজেদের প্রতিপালককে ভয় কর যিনি তোমাদের একটি মাত্র ব্যক্তি থেকে [আদম (আঃ)] থেকে সৃষ্টি করেছেন। ... নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা তোমাদের রক্ষণাবেক্ষণকারী”- (সূরা আন্ নিসা ৪:১)। অতঃপর তিনি সূরা হাশরের শেষের দিকের এ আয়াত পাঠ করলেনঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। প্রত্যেক ব্যক্তি যেন ভবিষ্যতের জন্য কী সঞ্চয় করেছে সেদিকে লক্ষ্য করে”-(সূরা আল হাশর ৫৯:১৮)। অতঃপর উপস্থিত লোকদের কেউ তার দিনার, কেউ দিরহাম, কেউ কাপড়, কেউ এক সা‘আটা ও কেউ এক সা‘ খেজুর দান করল। অবশেষে তিনি বললেন, “অন্ততঃ এক টুকরা খেজুর হলেও নিয়ে আসো।” বর্ণনাকারী বলেন, আনসার সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি একটি বিরাট থলি নিয়ে আসলেন। এর ভারে তার হাত অবসাদগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছিল কিংবা অবশ হয়ে গেল। রাবী আরো বলেন, অতঃপর লোকেরা সারিবদ্ধভাবে একের পর এক দান করতে থাকল। ফলে খাদ্য ও কাপড়ের দুটি স্তূপ হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চেহারা মুবারক খাঁটি সোনার ন্যায় উজ্জ্বল হয়ে হাসতে লাগল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে কোন উত্তম প্রথা বা কাজের প্রচলন করে সে তার এ কাজের সওয়াব পাবে এবং তার পরে যারা তার এ কাজ দেখে তা করবে সে এর বিনিময়েও সওয়াব পাবে। তবে এতে তাদের সওয়াব কোন অংশে কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে (ইসলামের পরিপন্থী) কোন খারাপ প্রথা বা কাজের প্রচলন করবে, তাকে তার এ কাজের বোঝা (গুনাহ এবং শাস্তি) বহন করতে হবে। তারপর যারা তাকে অনুসরণ করে এ কাজ করবে তাদের সমপরিমাণ বোঝাও তাকে বইতে হবে। তবে এতে তাদের অপরাধ ও শাস্তি কোন অংশেই কমবে না।”
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২২২০, ইসলামীক সেন্টারঃ ২২২১
সহিহ মুসলিম হাদিস ২২৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একদল অভাবী মানুষের আগমনের ঘটনা এসেছে। তারা পাদুকাহীন, বস্ত্রহীন ও কষ্টে ছিল। তাদের অবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর মুখমণ্ডলে বিষণ্নতা দেখা যায়। এরপর তিনি সালাত আদায় করে মানুষকে আল্লাহভীতি ও ভবিষ্যতের জন্য আমল পাঠানোর আয়াত স্মরণ করিয়ে দেন। মানুষ দিনার, দিরহাম, কাপড়, খাদ্য ও খেজুর দান করতে থাকে। একজন আনসার বড় থলি নিয়ে এলে অন্যরাও দানে এগিয়ে আসে। ফলে খাদ্য ও কাপড়ের স্তূপ জমে যায়, আর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর চেহারা আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এরপর তিনি বলেন, ইসলামে যে ব্যক্তি উত্তম কাজের পথ চালু করে, সে তার সওয়াব পাবে এবং পরে যারা তা করবে, তাদের সওয়াব থেকেও কমানো হবে না। আর খারাপ পথ চালু করলে তার বোঝাও বহন করতে হবে। এই হাদিস দান, সামাজিক দায়িত্ব এবং ভালো উদ্যোগের শক্তি শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অভাবী মানুষের কষ্ট দেখে সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া উচিত।
- একজনের ভালো উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে উৎসাহ দিতে পারে।
- উত্তম কাজের পথ চালু করলে তার সওয়াব চলতে পারে।
- খারাপ কাজের পথ চালু করা গুনাহের কারণ হতে পারে।
