১/৫৪. অধ্যায়ঃ
ইসলাম গ্রহণ এবং হিজরত ও হাজ্জ পালনের দ্বারা পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যায়
আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না: তাওবার দরজা খোলা
সহীহ মুসলিম : ২২১
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২২১
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمِ بْنِ مَيْمُونٍ، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ دِينَارٍ، - وَاللَّفْظُ لإِبْرَاهِيمَ - قَالاَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، - وَهُوَ ابْنُ مُحَمَّدٍ - عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يَعْلَى بْنُ مُسْلِمٍ، أَنَّهُ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ نَاسًا، مِنْ أَهْلِ الشِّرْكِ قَتَلُوا فَأَكْثَرُوا وَزَنَوْا فَأَكْثَرُوا ثُمَّ أَتَوْا مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا إِنَّ الَّذِي تَقُولُ وَتَدْعُو لَحَسَنٌ وَلَوْ تُخْبِرُنَا أَنَّ لِمَا عَمِلْنَا كَفَّارَةً فَنَزَلَ { وَالَّذِينَ لاَ يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ وَلاَ يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ وَلاَ يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ يَلْقَ أَثَامًا} وَنَزَلَ { يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لاَ تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ{ .
ইবনু ‘আব্বাস হতে বর্ণিতঃ
মুশরিকদের কিছু লোক যারা ব্যাপকভাবে হত্যা ও ব্যভিচারে লিপ্ত ছিল, তারা মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর দরবারে এসে জিজ্ঞেস করল, আপনি যে দ্বীনের প্রতি মানুষদের আহ্বান জানাচ্ছেন, এতো অনেক উত্তম বিষয়। তবে আমাদের পূর্বকৃত গুনাহসমূহের প্রায়শ্চিত্ত সম্পর্কে আপনি যদি আমাদের নিশ্চিতভাবে কিছু অবহিত করতেন। তখন এ আয়াত নাজিল হয় : “এবং যারা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহকে ডাকে না, আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না; যে এগুলো করে সে শাস্তি ভোগ করবে”-(সূরা আল-ফুরকান ২৫:৬৮)। আরো নাজিল করেন : “হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না”-(সূরা আয-যুমার : ৫৩)।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২২২, ইসলামীক সেন্টারঃ ২৩০
সহীহ মুসলিম হাদিস ২২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এমন কিছু মুশরিক লোকের কথা এসেছে, যারা বহু হত্যা ও ব্যভিচারে লিপ্ত ছিল। তারা নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে বলল, আপনি যে দ্বীনের দিকে ডাকছেন তা ভালো, কিন্তু আমাদের আগের গুনাহের জন্য কোনো কাফফারা আছে কি না, তা জানালে ভালো হতো। তখন দুটি আয়াত নাজিল হয়। এক আয়াতে শির্ক, অন্যায় হত্যা ও ব্যভিচারের কঠিন পরিণামের কথা আসে। আর অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছে, তারা যেন আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়। হাদিসটি ভয় ও আশার ভারসাম্য শেখায়। বড় গুনাহকে হালকা করে দেখা যাবে না, আবার আল্লাহর রহমত থেকেও হতাশ হওয়া যাবে না। সত্যভাবে ফেরার পথ আল্লাহ খুলে দিয়েছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বড় গুনাহকে ছোট করে দেখা উচিত নয়।
- আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া ঠিক নয়।
- সত্য জানার জন্য নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে প্রশ্ন করা হয়েছে।
- ভয় ও আশার মধ্যে থেকে তাওবার পথে ফিরতে হয়।
