১৩/৪. অধ্যায়ঃ
সদাক্বাতুল ফিত্র বা ফিত্রার বর্ণনা
সাহাবিদের ফিতরা আদায় ও এক সা’ মাপ
সহীহ মুসলিম : ২১৭৪
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২১৭৪
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ، - يَعْنِي ابْنَ قَيْسٍ - عَنْ عِيَاضِ، بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كُنَّا نُخْرِجُ إِذْ كَانَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَكَاةَ الْفِطْرِ عَنْ كُلِّ صَغِيرٍ وَكَبِيرٍ حُرٍّ أَوْ مَمْلُوكٍ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ أَوْ صَاعًا مِنْ أَقِطٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ فَلَمْ نَزَلْ نُخْرِجُهُ حَتَّى قَدِمَ عَلَيْنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ حَاجًّا أَوْ مُعْتَمِرًا فَكَلَّمَ النَّاسَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَكَانَ فِيمَا كَلَّمَ بِهِ النَّاسَ أَنْ قَالَ إِنِّي أُرَى أَنَّ مُدَّيْنِ مِنْ سَمْرَاءِ الشَّامِ تَعْدِلُ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ فَأَخَذَ النَّاسُ بِذَلِكَ . قَالَ أَبُو سَعِيدٍ فَأَمَّا أَنَا فَلاَ أَزَالُ أُخْرِجُهُ كَمَا كُنْتُ أُخْرِجُهُ أَبَدًا مَا عِشْتُ .
আবূ সা'ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় আমরা ছোট, বড়, স্বাধীন, ক্রীতদাস- প্রত্যেকের পক্ষ থেকে এক সা’ খাদ্য (অর্থাৎ গম) বা এক সা’ পনির, বা এক সা’ যব বা এক সা’ খেজুর বা এক সা’ শুকনো আঙ্গুর ফিতরা হিসেবে বের করতাম। আমরা এভাবেই ফিতরা আদায় করে আসছিলাম। শেষ পর্যন্ত যখন মু‘আবিয়া (রাঃ) হজ্জ বা উমরার উদ্দেশে আমাদের মাঝে গমন করলেন, তিনি লোকদের উদ্দেশে ওয়ায করলেন এবং বললেনঃ আমি জানি যে, সিরিয়ার দুই মুদ্দ লাল গম এক সা’ খেজুরের সমান। সুতরাং লোকেরা তার এ অভিমত গ্রহণ করল। আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, কিন্তু আমি যতদিন জীবিত থাকব ততদিন পূর্বের ন্যায় যে পরিমাণে ও যে নিয়মে দিচ্ছিলাম সেভাবেই দিতে থাকব।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২১৫৩, ইসলামীক সেন্টারঃ ২১৫৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ২১৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর জীবদ্দশার ফিতরা আদায়ের আমল বর্ণনা করেছেন। তারা ছোট-বড়, স্বাধীন-ক্রীতদাস সবার পক্ষ থেকে এক সা’ খাদ্য, পনির, যব, খেজুর বা কিশমিশ দিতেন। পরে মু‘আবিয়া (রাঃ) লোকদের সামনে বলেন, সিরিয়ার দুই মুদ লাল গম এক সা’ খেজুরের সমান বলে তিনি মনে করেন। লোকেরা তাঁর মত গ্রহণ করে। কিন্তু আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, তিনি জীবিত থাকা পর্যন্ত আগের নিয়মেই ফিতরা দেবেন। এই হাদিসে মূল আলোচ্য হলো ফিতরার পরিমাণ, খাদ্যের ধরন এবং সাহাবিরা নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর যুগের আমলকে কীভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। এটি ফিতরার মাপ নিয়ে সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ বোঝাপড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর যুগে এক সা’ খাদ্য দিয়ে ফিতরা আদায়ের আমল ছিল।
- ফিতরা ছোট-বড় ও স্বাধীন-ক্রীতদাস সবার পক্ষ থেকে আদায় করা হতো।
- দুই মুদ গমের মত পরে এসেছে, আর আবু সাঈদ (রাঃ) আগের মাপ ধরে রেখেছেন।
- সাহাবিদের আমল বুঝে ফিতরার পরিমাণ আলোচনা করা উচিত।
