৮/৭. অধ্যায়ঃ
জুমু‘আর দিনে (সলাত) প্রস্তুতির ফাযীলাত
জুমার দিনে ফেরেশতাদের নথি ও খুতবার গুরুত্ব
সহিহ মুসলিম : ১৮৭১
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৮৭১
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ - عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " عَلَى كُلِّ بَابٍ مِنْ أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ مَلَكٌ يَكْتُبُ الأَوَّلَ فَالأَوَّلَ - مَثَّلَ الْجَزُورَ ثُمَّ نَزَّلَهُمْ حَتَّى صَغَّرَ إِلَى مَثَلِ الْبَيْضَةِ - فَإِذَا جَلَسَ الإِمَامُ طُوِيَتِ الصُّحُفُ وَحَضَرُوا الذِّكْرَ " .
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: মসজিদের দরজাগুলোর প্রতিটিতে একজন করে ফেরেশতা নিয়োজিত থাকেন। তিনি আগমনকারীদের নাম (তাদের আগমনের) ক্রমানুসারে লিপিবদ্ধ করেন। মসজিদে সর্বপ্রথম আগমনকারী উট কুরবানীকারীর সমতুল্য ….. এভাবে পর্যায়ক্রমে তুলনা করা হয়েছে, এমনকি একটি ডিমের মতো ক্ষুদ্র বস্তু দানের তুলনা দিয়েছেন। ইমাম যখন (খুতবা দেয়ার উদ্দেশ্যে মিম্বারে) বসেন তখন নথিপত্র গুটিয়ে ফেলা হয় এবং ফেরেশতামণ্ডলী খুতবার আলোচনা শুনতে হাজির হন।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৮৫৬, ইসলামীক সেন্টারঃ ১৮৬৩
সহিহ মুসলিম হাদিস ১৮৭১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমার দিনের একটি বিশেষ দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, মসজিদের প্রতিটি দরজায় একজন করে ফেরেশতা থাকেন। তারা আগমনকারীদের নাম আগে আগে আসার ক্রমানুসারে লিখেন। এরপর আগমনকারীদের ফজিলত বোঝাতে বড় কুরবানি থেকে ছোট দানের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে; উট, তারপর ধাপে ধাপে ডিম পর্যন্ত তুলনা এসেছে। এতে বোঝা যায়, জুমার সালাতে আগে আসা ও দেরিতে আসা একই মানের নয়। ইমাম যখন খুতবার জন্য বসেন, তখন নথিপত্র গুটিয়ে ফেলা হয় এবং ফেরেশতারা খুতবা শুনতে উপস্থিত হন। তাই জুমার খুতবা একটি সাধারণ বক্তৃতা নয়; এটি আল্লাহর স্মরণ ও উপদেশের সময়। মুসল্লির উচিত আগে আসা, নীরব থাকা এবং মন দিয়ে খুতবা শোনা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমার দিনে আগে আগমনকারীদের নাম ফেরেশতারা লিখেন।
- আগে আসার ফজিলত বোঝাতে কুরবানির উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।
- ইমাম বসলে নথি বন্ধ হয়ে খুতবা শোনার সময় শুরু হয়।
- জুমার খুতবার সময় মনোযোগ রাখা উচিত।
