৭/১৫. অধ্যায়ঃ

কুরআন অধ্যয়ন ও শিক্ষায় নিমগ্ন ব্যক্তির ফাযীলাত এবং যে ব্যক্তি ফিক্‌হ ইত্যাদির সূক্ষ্মজ্ঞান আহরণ করে তদনুসারে (নেক) 'আমাল করে ও শিক্ষা দেয় তার ফাযীলাত

কুরআনের জ্ঞান মানুষকে মর্যাদা দেয়

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৭৮২

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ وَاثِلَةَ، أَنَّ نَافِعَ بْنَ عَبْدِ الْحَارِثِ، لَقِيَ عُمَرَ بِعُسْفَانَ وَكَانَ عُمَرُ يَسْتَعْمِلُهُ عَلَى مَكَّةَ فَقَالَ مَنِ اسْتَعْمَلْتَ عَلَى أَهْلِ الْوَادِي فَقَالَ ابْنَ أَبْزَى ‏.‏ قَالَ وَمَنِ ابْنُ أَبْزَى قَالَ مَوْلًى مِنْ مَوَالِينَا ‏.‏ قَالَ فَاسْتَخْلَفْتَ عَلَيْهِمْ مَوْلًى قَالَ إِنَّهُ قَارِئٌ لِكِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَإِنَّهُ عَالِمٌ بِالْفَرَائِضِ ‏.‏ قَالَ عُمَرُ أَمَا إِنَّ نَبِيَّكُمْ صلى الله عليه وسلم قَدْ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ يَرْفَعُ بِهَذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا وَيَضَعُ بِهِ آخَرِينَ ‏"‏ ‏.

আমির ইবনু ওয়াসিলাহ্‌ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

নাফি ইবন আবদুল হারিস (রাঃ) 'উসফান' নামক স্থানে উমর (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। উমর (রাঃ) তাকে মক্কায় (রাজস্ব আদায়কারী) নিয়োগ করলেন। অতঃপর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন : তুমি প্রান্তরবাসীদের জন্য কাকে কাজে নিয়োগ করেছ? সে বলল- ইবন আবজা-কে।উমর (রাঃ) বললেন, ইবন আবজা কে? সে (নাফি) বলল, আমাদের আজাদকৃত ক্রীতদাসদের একজন। উমর (রাঃ) বললেন, তুমি একজন ক্রীতদাসকে তাদের জন্য তোমার স্থলাভিষিক্ত নিয়োগ করেছ? নাফি বললেন- সে (ক্রীতদাসটি) মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কিতাবের একজন ভাল কারী বা ‘আলিম। আর সে ফারায়েজ শাস্ত্রেও অভিজ্ঞ।তখন উমর (রাঃ) বললেনঃ তোমাদের নবী (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা এ কিতাব দ্বারা অনেক জাতিকে মর্যাদায় উন্নীত করেন আর অন্যদের অবনতি করেন। অর্থাৎ যারা এ কিতাবের অনুসারী হবে তারা দুনিয়ায় মর্যাদাবান এবং আখিরাতে জান্নাত লাভ করবে। আর যারা একে অস্বীকার করবে তারা দুনিয়ায় লাঞ্ছিত ও পরকালে জাহান্নামে পতিত হবে।

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৭৬৭, ইসলামীক সেন্টারঃ ১৭৭৪

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৭৮২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নাফি ইবন আবদুল হারিস (রা.) উমর (রা.)-এর সঙ্গে দেখা করেন। উমর (রা.) তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি প্রান্তরবাসীদের জন্য কাকে দায়িত্বে রেখেছেন। তিনি বলেন, ইবন আবজা। উমর (রা.) জানতে চান, সে কে। উত্তরে বলা হয়, সে একজন আজাদকৃত দাস, কিন্তু সে আল্লাহর কিতাবের ভালো কারী বা আলিম এবং ফারায়েজ শাস্ত্রে অভিজ্ঞ। তখন উমর (রা.) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথা বলেন—আল্লাহ এই কিতাব দ্বারা অনেক জাতিকে মর্যাদায় উন্নীত করেন এবং অন্যদের নিচে নামান। এখানে মূল শিক্ষা হলো, মানুষের সামাজিক পরিচয় নয়; কুরআনের জ্ঞান, আমল ও যোগ্যতা মর্যাদার বড় কারণ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কুরআনের জ্ঞান মানুষের মর্যাদা বাড়াতে পারে।
  • দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ।
  • সামাজিক অবস্থার চেয়ে আল্লাহর কিতাবের জ্ঞান বড় মূল্যবান।
  • কুরআন অনুসরণ উন্নতির কারণ, অবহেলা ক্ষতির কারণ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন