৭/১৫. অধ্যায়ঃ
কুরআন অধ্যয়ন ও শিক্ষায় নিমগ্ন ব্যক্তির ফাযীলাত এবং যে ব্যক্তি ফিক্হ ইত্যাদির সূক্ষ্মজ্ঞান আহরণ করে তদনুসারে (নেক) 'আমাল করে ও শিক্ষা দেয় তার ফাযীলাত
হিকমা শেখা, আমল করা ও মানুষকে শেখানো
সহীহ মুসলিম : ১৭৮১
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৭৮১
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ قَيْسٍ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي وَمُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ قَيْسٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ حَسَدَ إِلاَّ فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالاً فَسَلَّطَهُ عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الْحَقِّ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ حِكْمَةً فَهُوَ يَقْضِي بِهَا وَيُعَلِّمُهَا " .
আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দুই প্রকারের লোক ছাড়া কারো সাথে ঈর্ষা পোষণ করা যায় না। এক প্রকারের লোক হল- যাকে আল্লাহ অর্থ-সম্পদ দিয়েছেন এবং হক পথে তা ব্যয় করার তাওফিক তাকে দিয়েছেন। আর অন্য ব্যক্তি হল যাকে আল্লাহ তা’আলা ‘হিকমা’ বা সঠিক জ্ঞান দান করেছেন। সে তদনুযায়ী কাজ করে এবং তা অন্যদের শিক্ষা দেয়।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৭৬৬,ইসলামীক সেন্টারঃ ১৭৭৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৭৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, দুই ধরনের লোক ছাড়া কারো সঙ্গে ঈর্ষা করা যায় না। এক ব্যক্তি হলো, যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন এবং তাকে হক পথে তা ব্যয় করার তাওফিক দিয়েছেন। আরেক ব্যক্তি হলো, যাকে আল্লাহ হিকমা বা সঠিক জ্ঞান দিয়েছেন; সে সেই জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করে এবং অন্যদের শিক্ষা দেয়। এখানে “ঈর্ষা” খারাপ অর্থে নয়; বরং ভালো গুণ দেখে নিজেও সেই পথে এগোতে চাওয়ার অর্থে বুঝতে হবে। হাদিসে তিনটি বিষয় একসঙ্গে এসেছে—হক পথে ব্যয়, সঠিক জ্ঞান অনুযায়ী কাজ, এবং তা অন্যদের শেখানো। তাই জ্ঞান শুধু নিজের মধ্যে রাখা নয়, আমল ও শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে তা ফলদায়ক হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্পদ হক পথে ব্যয় করা প্রশংসনীয় কাজ।
- হিকমা বা সঠিক জ্ঞান পেলে তার ওপর আমল করা দরকার।
- উপকারী জ্ঞান অন্যদের শেখানো ভালো গুণ।
- ভালো মানুষ দেখে ভালো কাজে আগ্রহী হওয়া উচিত।
