১/৩০. অধ্যায়ঃ
বংশের প্রতি কটাক্ষের এবং উচ্চৈঃস্বরে বিলাপের উপর কুফ্রী শব্দের প্রয়োগ
বংশে কটাক্ষ ও মৃতের জন্য বিলাপ: ঈমানি সতর্কতা
সহিহ মুসলিম : ১৩০
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৩০
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا أَبِي وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، كُلُّهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " اثْنَتَانِ فِي النَّاسِ هُمَا بِهِمْ كُفْرٌ الطَّعْنُ فِي النَّسَبِ وَالنِّيَاحَةُ عَلَى الْمَيِّتِ " .
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, দু’টো স্বভাব মানুষের মাঝে রয়েছে, যা কুফর বলে গণ্য- বংশের প্রতি কটাক্ষ করা এবং মৃত ব্যক্তির জন্য উচ্চস্বরে বিলাপ করা।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১৩১, ইসলামীক সেন্টারঃ ১৩৫[৩৮] বংশের প্রতি কটাক্ষ করা, যেমন কাউকে বলা তুমি নিচু বংশের অভদ্র, কিংবা তোমার বংশই খারাপ বলা কিংবা দাসীর পেটের আর কত ভাল হবে। এগুলো বলা কাফিরদের অনুকরণ করা। কারন, জাহিলী সমাজ চরিত্রে বংশ গৌরব খুব প্রচলন ছিল। অথচ আমরা সকলে আদাম সন্তান, আদাম সন্তানের মর্যাদা তার আল্লাহভীরু হওয়ার উপর নির্ভর করে। [৩৯] মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে অর্থাৎ তার গুন উল্লেখ করে উচ্চৈঃস্বরে কাঁদা, উভয়টাই কাফিরদের আচরণ।
সহিহ মুসলিম হাদিস ১৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মানুষের মাঝে থাকা দু’টি খারাপ স্বভাবের কথা বলেছেন, যা কুফর বলে গণ্য। প্রথমটি হলো বংশের প্রতি কটাক্ষ করা। অর্থাৎ কারও বংশ, পরিবার বা পরিচয়কে অপমানের ভাষায় আঘাত করা। দ্বিতীয়টি হলো মৃত ব্যক্তির জন্য উচ্চস্বরে বিলাপ করা। এখানে “বংশ নিয়ে কটাক্ষ”, “মৃতের জন্য বিলাপ” এবং “কুফরসদৃশ কাজ”—এই মূল শব্দগুলো হাদিসের শিক্ষাকে স্পষ্ট করে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, মুখের কথা কখনও ছোট বিষয় নয়। কারও বংশ নিয়ে অপমান করা মানুষের সম্মান নষ্ট করে। আবার মৃত্যুর সময় ধৈর্য হারিয়ে উচ্চস্বরে বিলাপ করাও নিন্দিত স্বভাব। হাদিসে এগুলোকে খুব কঠোর ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে, যাতে মানুষ জাহেলি ধরনের আচরণ থেকে দূরে থাকে এবং শোকের সময়ও আল্লাহর সামনে বিনয়ী থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারও বংশ বা পরিবার নিয়ে কটাক্ষ করা নিন্দিত কাজ।
- মৃতের জন্য উচ্চস্বরে বিলাপ করা থেকে বেঁচে থাকা উচিত।
- শোকের সময় ধৈর্য ও সংযত আচরণ রাখা দরকার।
- মুখের অপমানও ঈমানি আচরণের বিপরীত হতে পারে।
