৫/১৭. অধ্যায়ঃ
রসুন, পিঁয়াজ, মুলা অথবা এ জাতীয় (দুর্গন্ধযুক্ত) দ্রব্য আহার করে (মাসজিদে প্রবেশ) নিষিদ্ধ
পেঁয়াজ-রসুনের গন্ধ নিয়ে মসজিদে না আসা
সহীহ মুসলিম : ১১৩৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১১৩৯
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَكْلِ الْبَصَلِ وَالْكُرَّاثِ . فَغَلَبَتْنَا الْحَاجَةُ فَأَكَلْنَا مِنْهَا فَقَالَ " مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ الْمُنْتِنَةِ فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا فَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ تَأَذَّى مِمَّا يَتَأَذَّى مِنْهُ الإِنْسُ " .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) পেঁয়াজ ও গো-রসুন খেতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু কোন এক সময় প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য হয়ে তা খেলে তিনি বললেন: কেউ এসব দুর্গন্ধযুক্ত গাছ (উদ্ভিদ) খেলে সে যেন আমার মসজিদের নিকটে না আসে। কেননা মানুষ যেসব জিনিসে কষ্ট পায় ফেরেশতাগণও সেসব জিনিসে কষ্ট পায়।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১১৩২, ইসলামীক সেন্টারঃ ১১৪১[১] দুর্গন্ধযুক্ত শিকড় সমৃদ্ধ একপ্রকার গাছ, যা রসুন সদৃশ, তন্মধ্যে কোনটি ঔষধী এক বছর থাকে, আবার কোনটি কয়েক বছর বেঁচে থাকে, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এরূপ গাছ চাষ করা হয় এবং তা ভেজে পাকিয়ে খাওয়া হয়, প্রস্রাবের সচ্ছতার জন্য উপাদেয়।
সহীহ মুসলিম হাদিস ১১৩৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم পেঁয়াজ ও গো-রসুন খেতে নিষেধ করেছেন বলে বর্ণনা এসেছে। পরে প্রয়োজনের তাগিদে সাহাবীরা তা খেলে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এসব দুর্গন্ধযুক্ত গাছ খায়, সে যেন তাঁর মসজিদের নিকটে না আসে। এরপর তিনি বলেন, মানুষ যেসব জিনিসে কষ্ট পায়, ফেরেশতারাও সেসব জিনিসে কষ্ট পান। এই হাদিসে মসজিদের আদব খুব স্পষ্ট। গন্ধযুক্ত খাবার খাওয়া হলে মুখের গন্ধ নিয়ে মসজিদে যাওয়া উচিত নয়। এখানে মানুষের কষ্টের সাথে ফেরেশতাদের কষ্টের কথাও এসেছে, তাই বিষয়টি শুধু সামাজিক ভদ্রতা নয়; ইবাদতের পরিবেশের সাথেও জড়িত। পেঁয়াজ-রসুনের গন্ধ দূর করে মসজিদে আসা এই হাদিসের প্রধান শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুর্গন্ধযুক্ত খাবার খেলে গন্ধসহ মসজিদে না আসার নির্দেশ এসেছে।
- মানুষ যেসব গন্ধে কষ্ট পায়, ফেরেশতারাও তাতে কষ্ট পান।
- মসজিদের পরিবেশে অন্যদের আরাম বিবেচনা করা দরকার।
- প্রয়োজনে খাওয়া হলেও গন্ধের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যাবে না।
