২৬/৮. অধ্যায়ঃ
যে ধরনের পশু কোরবানী করা মাকরূহ
চার ধরনের ত্রুটিযুক্ত পশু কোরবানি করলে যথেষ্ট নয়
সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩১৪৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ৩১৪৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ، وَأَبُو دَاوُدَ وَابْنُ أَبِي عَدِيٍّ وَأَبُو الْوَلِيدِ قَالُوا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، سَمِعْتُ سُلَيْمَانَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ سَمِعْتُ عُبَيْدَ بْنَ فَيْرُوزَ، قَالَ قُلْتُ لِلْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ حَدِّثْنِي بِمَا، كَرِهَ أَوْ نَهَى عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مِنَ الأَضَاحِيِّ . فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ هَكَذَا بِيَدِهِ وَيَدِي أَقْصَرُ مِنْ يَدِهِ " أَرْبَعٌ لاَ تُجْزِئُ فِي الأَضَاحِيِّ الْعَوْرَاءُ الْبَيِّنُ عَوَرُهَا وَالْمَرِيضَةُ الْبَيِّنُ مَرَضُهَا وَالْعَرْجَاءُ الْبَيِّنُ ظَلْعُهَا وَالْكَسِيرَةُ الَّتِي لاَ تُنْقِي " . قَالَ فَإِنِّي أَكْرَهُ أَنْ يَكُونَ نَقْصٌ فِي الأُذُنِ . قَالَ فَمَا كَرِهْتَ مِنْهُ فَدَعْهُ وَلاَ تُحَرِّمْهُ عَلَى أَحَدٍ .
উবায়দ বিন ফাযরূয হতে বর্ণিতঃ
আমি বারাআ বিন আজিব (রাঃ) কে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে ধরনের পশু কোরবানি করতে অপছন্দ অথবা নিষেধ করেছেন সেই সম্পর্কে আমাদের বলুন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর হাতের ইশারায় বলেন, এরূপ, আর আমার হাত তাঁর হাতের চেয়ে ক্ষুদ্র। চার প্রকারের পশু কোরবানি করলে তা যথেষ্ট হবে না। অন্ধ পশু যার অন্ধত্ব সুস্পষ্ট, রুগ্ন পশু যার রোগ সুস্পষ্ট, খোঁড়া পশু যার পঙ্গুত্ব সুস্পষ্ট এবং কৃশকায় দুর্বল পশু যার হাড়ের মজ্জা শুকিয়ে গেছে। উবাইদ (রাঃ) বলেন, আমি ত্রুটিযুক্ত কানবিশিষ্ট পশু কোরবানি করা অপছন্দ করি। বারাআ (রাঃ) বলেন, যে ধরনের পশু তুমি নিজে অপছন্দ করো তা পরিহার করো, কিন্তু অন্যদের জন্য তা হারাম করো না।
[৩১৪৪] তিরমিযী ১৪৯৭, নাসায়ী ৪৩৬৯, ৪৩৭০, ৪৩৭১, আবূ দাউদ ২৮০২, আহমাদ ১৮০৩৯, ১৮০৭১, ১৮১৯২, ১৮২০০, মুয়াত্তা মালেক ১০৪১, দারেমী ১৯৪৯, ১৯৫০, ইরওয়া ১১৪৮, মিশকাত ১৪৬৫। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ৩১৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বারাআ বিন আজিব (রাঃ) চার ধরনের পশুর কথা বলেছেন, যেগুলো কোরবানির জন্য যথেষ্ট হবে না। এগুলো হলো—যার অন্ধত্ব স্পষ্ট, যার রোগ স্পষ্ট, যার খোঁড়াভাব স্পষ্ট এবং এত দুর্বল যে হাড়ের মজ্জা শুকিয়ে গেছে। এই হাদিস কোরবানির পশুর ত্রুটি সম্পর্কে সবচেয়ে পরিষ্কার শিক্ষাগুলোর একটি। এখানে ‘স্পষ্ট’ শব্দের ভাবটি গুরুত্বপূর্ণ; অর্থাৎ এমন ত্রুটি যা দেখা যায় এবং পশুর অবস্থাকে প্রভাবিত করে। শেষে বারাআ (রাঃ) বলেন, যে ধরনের পশু তুমি নিজে অপছন্দ করো তা পরিহার করো, কিন্তু অন্যদের জন্য তা হারাম করো না। তাই ব্যক্তিগত অপছন্দ আর শরয়ি নিষেধ এক জিনিস নয়। কোরবানির পশু বাছাইয়ে এই ভারসাম্য রাখা দরকার। এতে কোরবানির পশু নিয়ে অযথা কঠোরতা না করার শিক্ষাও আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্পষ্ট অন্ধ, রুগ্ন, খোঁড়া ও অতিদুর্বল পশু কোরবানির জন্য যথেষ্ট নয়।
- কোরবানির পশুর ত্রুটি যাচাই করা দায়িত্বশীল কাজ।
- নিজের অপছন্দকে সবার জন্য হারাম বলা ঠিক নয়।
