২১/২৯. অধ্যায়ঃ
মালিকের দ্বারা গোলামের অঙ্গহানি হলে সে দাসত্বমুক্ত হয়ে যাবে
গোলামের অঙ্গহানি: জুলুমের জবাবে মুক্তির শিক্ষা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৬৭৯
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৬৭৯
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ رَوْحِ بْنِ زِنْبَاعٍ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّهُ قَدِمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ خَصَى غُلاَمًا لَهُ فَأَعْتَقَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالْمُثْلَةِ .
সালামাহ বিন ফারওয়াহ্ বিন যিনবা‘ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তার দাদা (রাঃ), তিনি তার এক গোলামকে নির্বীর্য করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এলেন। নবী (ﷺ) তাকে এই অঙ্গহানির কারণে দাসত্বমুক্ত করে দিলেন।
[২৬৭৯] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তাহকীক আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবী ১. ইসহাক বিন মানসুর সম্পর্কে আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সিকাহ তবে তিনি শীয়া মতাবলম্বী। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার শীয়া মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮৪, ১/১০৩ নং পৃষ্ঠা) ২. ইসহাক বিন আবু ফারওয়াহ সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তার সানাদ বা মাতান কোনটিরই কেউ অনুসরণ করেনি। আবু বাকর আল-বুরকানী ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি মাতরুক বা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবু বাকর আল-বাযযার বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু ইয়া'লা আল-খালীলী বলেন, তিনি খুবই দুর্বল। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৬৭, ২/৪৪৬ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৬৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, এক ব্যক্তি তার এক গোলামকে নির্বীর্য করে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) সেই অঙ্গহানির কারণে গোলামকে দাসত্বমুক্ত করে দিলেন। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, মালিকের হাতে থাকা মানুষও তার দেহের অধিকার রাখে। অঙ্গহানি করা গুরুতর জুলুম; এখানে তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে দাসত্বমুক্তির কথা এসেছে। ‘গোলামের অঙ্গহানি’, ‘দাসের অধিকার’ এবং ‘মালিকের জবাবদিহি’—এই বিষয়গুলো হাদিসের কেন্দ্রে আছে। ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বাড়তি ফিকহি আলোচনা না এনে বলা যায়, প্রদত্ত পাঠে অঙ্গহানির ক্ষতিপূরণ হিসেবে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এটি দুর্বল ও অধীনস্থ মানুষের ওপর অন্যায় থেকে বিরত থাকার শক্ত শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গোলামের দেহের ওপর মালিকের অন্যায় অধিকার নেই।
- অঙ্গহানি গুরুতর জুলুম হিসেবে এসেছে।
- অঙ্গহানির কারণে দাসত্বমুক্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
- দুর্বল মানুষের অধিকার রক্ষায় জবাবদিহির শিক্ষা আছে।
