২০/৩৪. অধ্যায়ঃ
কেউ নিজের স্ত্রীর সাথে বেগানা পুরুষ লোককে পেলে
সাক্ষ্য, আত্মমর্যাদা ও আবেগী শাস্তি সম্পর্কে হাদিস
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৬০৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২৬০৬
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الْفَضْلِ بْنِ دَلْهَمٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ حُرَيْثٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبِّقِ، قَالَ قِيلَ لأَبِي ثَابِتٍ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ حِينَ نَزَلَتْ آيَةُ الْحُدُودِ وَكَانَ رَجُلاً غَيُورًا أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّكَ وَجَدْتَ مَعَ أُمِّ ثَابِتٍ رَجُلاً أَىَّ شَىْءٍ كُنْتَ تَصْنَعُ قَالَ كُنْتُ ضَارِبَهُمَا بِالسَّيْفِ أَنْتَظِرُ حَتَّى أَجِيءَ بِأَرْبَعَةٍ إِلَى مَا ذَاكَ قَدْ قَضَى حَاجَتَهُ وَذَهَبَ . أَوْ أَقُولُ رَأَيْتُ كَذَا وَكَذَا فَتَضْرِبُونِي الْحَدَّ وَلاَ تَقْبَلُوا لِي شَهَادَةً أَبَدًا . قَالَ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " كَفَى بِالسَّيْفِ شَاهِدًا " . ثُمَّ قَالَ " لاَ إِنِّي أَخَافُ أَنْ يَتَتَايَعَ فِي ذَلِكَ السَّكْرَانُ وَالْغَيْرَانُ " . قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ مَاجَهْ سَمِعْتُ أَبَا زُرْعَةَ يَقُولُ هَذَا حَدِيثُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الطَّنَافِسِيِّ وَفَاتَنِي مِنْهُ .
সালামাহ ইবনুল মুহাব্বিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হদ্দ সম্পর্কিত আয়াত নাযিল হলে তীক্ষ্ণ আত্মমর্যাদাবোধের অধিকারী আবু সাবিত সাদ বিন উবাদা (রাঃ)-কে বলা হলো, “তোমার স্ত্রীর সাথে বেগানা কোন পুরুষ লোককে পেলে তুমি কি করবে?” তিনি বলেন, “আমি তাদের উভয়কে তরবারির আঘাতে হত্যা করব। আমার দ্বারা এটা সম্ভব হবে না যে আমি এই অপকর্মের চারজন সাক্ষী তালাশ করব এবং সাক্ষী নিয়ে আসতে আসতে সে তার অপকর্ম শেষ করবে অথবা আমি তোমাদের সামনে এসে বলব যে, আমি এরূপ এরূপ দেখেছি এবং তোমরা আমাকে যেনার অপবাদের শাস্তি দিবে এবং আর কখনো আমার সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না।”রাবী বলেন, বিষয়টি নবী (ﷺ)-এর সামনে আলোচনা করা হলে তিনি বলেনঃ “তরবারিই সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট।” অতঃপর তিনি বলেনঃ “না (এ অনুমতি দেয়া যায় না)। আমি আশঙ্কা করছি যে, মাতাল ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন ব্যক্তি তাই করে বসবে।”ইমাম আবু আবদুল্লাহ ইবনু মাজাহ (রহঃ) বলেন, আমি আবু যুরআ (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, এটা হলো আলি বিন মুহাম্মাদ আত-তানাফিসী বর্ণিত হাদিস, যার অংশবিশেষ আমার স্মরণ নাই।
[২৬০৬] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। যইফাহ ৪০৯১। তাহকীক আলবানীঃ যইফ। উক্ত হাদিসের রাবী আল-ফাদল বিন দালহাম সম্পর্কে আবুল ফাতহ আল-আযদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় খুবই দুর্বল। আবু বাকর আল-বাযযার বলেন, তিনি হাফিয ছিলেন না। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি যাচাই-বাচাই ছাড়া হাদিস গ্রহন করেন ও তা বর্ণনা করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৭৩৩, ২৩/২২০ নং পৃষ্ঠা) ২. কাবীসাহ বিন হুরায়স সম্পর্কে আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান বলেন, তিনি অজ্ঞ। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তার পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানা যায়না। আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তার হাদিস বিশুদ্ধ নয়। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ইমাম বুখারী বলেন, তার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৮৪১, ২৩/৪৭৫ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২৬০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাদ বিন উবাদা (রাঃ)-এর তীক্ষ্ণ আত্মমর্যাদাবোধের কথা এসেছে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, স্ত্রীকে বেগানা পুরুষের সঙ্গে পেলে তিনি উভয়কে তরবারি দিয়ে আঘাত করবেন; চারজন সাক্ষী জোগাড় করার অপেক্ষা করবেন না। বিষয়টি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে আলোচনা হলে তিনি বলেন, “তরবারিই সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট।” এরপর তিনি বলেন, “না, আমি আশঙ্কা করছি যে মাতাল ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন ব্যক্তি তাই করে বসবে।” হাদিসটির শিক্ষা খুব সূক্ষ্ম। আবেগ, ক্রোধ বা মানসম্মানের অনুভূতি মানুষকে বিপজ্জনক কাজে নিয়ে যেতে পারে। তাই সাক্ষ্য, নিয়ম ও সংযমের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসটি নিজ হাতে শাস্তি দেওয়ার ঝুঁকি দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আবেগের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।
- সাক্ষ্য ও নিয়ম ছাড়া শাস্তির পথে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
- আত্মমর্যাদাবোধ থাকলেও শরিয়তের সীমা মানতে হয়।
- মাতাল বা অতিরিক্ত উত্তেজিত ব্যক্তি বড় ভুল করতে পারে।
