১/৮. অধ্যায়ঃ
গোসল ও যৌন অপবিত্র ব্যক্তির (জুনুবী) হুকুম - সহবাসের পর গোসল করা আবশ্যক
সহবাসের পর গোসল ফরজ: শুক্রপাত না হলেও পবিত্রতার শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ১০৯
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১০৯
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا جَلَسَ بَيْنَ شُعَبِهَا الْأَرْبَعِ, ثُمَّ جَهَدَهَا, فَقَدْ وَجَبَ الْغُسْلُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِزَادَ مُسْلِمٌ: وَإِنْ لَمْ يُنْزِلْ
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন স্ত্রীর চার শাখার (অঙ্গের) মধ্যে বসবে (সঙ্গমে লিপ্ত হবে) তখন তার পক্ষে গোসল ফরজ হবে।’ [১২৯] মুসলিম এ কথাটি বর্ধিত করেছেন: “যদিও শুক্রপাত না হয়।” [১৩০]
[১২৯] বুখারী ২৯১; মুসলিম ৩৪৮[১৩০] এ হাদীসটিও সহীহ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সহবাসের পর গোসল ফরজ হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কেউ যখন স্ত্রীর চার শাখার মধ্যে বসবে, অর্থাৎ সঙ্গমে লিপ্ত হবে, তখন তার জন্য গোসল ফরজ হবে। মুসলিমের বর্ধিত বর্ণনায় আছে, যদিও শুক্রপাত না হয়। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, শুধু বীর্য নির্গত হওয়া নয়; সহবাসের ঘটনাও গোসল ফরজ হওয়ার কারণ। এখানে জানাবাত, ফরজ গোসল এবং সহবাসের পর পবিত্রতা—এই বিষয়গুলো সরাসরি এসেছে। ভাষাটি শালীন, কিন্তু বিধানটি পরিষ্কার। মুসলিম পরিবার জীবনে এ ধরনের জ্ঞান লজ্জার বিষয় নয়; বরং পবিত্রভাবে ইবাদত করার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা। হাদিসটি মুত্তাফাকুন আলাইহ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সহবাসের পর গোসল ফরজ হওয়ার কথা হাদিসে স্পষ্ট এসেছে।
- মুসলিমের বর্ণনায় আছে, শুক্রপাত না হলেও গোসল ফরজ।
- পারিবারিক জীবনের পবিত্রতা সম্পর্কে শালীনভাবে জ্ঞান রাখা দরকার।
- ইবাদতের আগে জানাবাত থেকে পবিত্র হওয়া জরুরি।
