২/১৪০. অধ্যায়ঃ
সালাতে পরিপূর্ণ তাকবীর বলা
প্রত্যেক রাকাতে তাকবির: আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর সালাত
সুনানে আবু দাউদ : ৮৩৬
সুনানে আবু দাউদহাদিস নম্বর ৮৩৬
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا أَبِي وَبَقِيَّةُ، عَنْ شُعَيْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَأَبُو سَلَمَةَ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، كَانَ يُكَبِّرُ فِي كُلِّ صَلاَةٍ مِنَ الْمَكْتُوبَةِ وَغَيْرِهَا يُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْكَعُ ثُمَّ يَقُولُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ثُمَّ يَقُولُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ قَبْلَ أَنْ يَسْجُدَ ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ حِينَ يَهْوِي سَاجِدًا ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَسْجُدُ ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَرْفَعُ رَأْسَهُ ثُمَّ يُكَبِّرُ حِينَ يَقُومُ مِنَ الْجُلُوسِ فِي اثْنَتَيْنِ فَيَفْعَلُ ذَلِكَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ حَتَّى يَفْرُغَ مِنَ الصَّلاَةِ ثُمَّ يَقُولُ حِينَ يَنْصَرِفُ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لأَقْرَبُكُمْ شَبَهًا بِصَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنْ كَانَتْ هَذِهِ لَصَلاَتُهُ حَتَّى فَارَقَ الدُّنْيَا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا الْكَلاَمُ الأَخِيرُ يَجْعَلُهُ مَالِكٌ وَالزُّبَيْدِيُّ وَغَيْرُهُمَا عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ وَوَافَقَ عَبْدُ الأَعْلَى عَنْ مَعْمَرٍ شُعَيْبَ بْنَ أَبِي حَمْزَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ .
আবূ বাকর ইবনু ‘আবদূর রহমান এবং আবূ সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁরা বলেন, আবু হুরাইরা (রাঃ) প্রত্যেক ফরজ ও অন্যান্য সালাত দাঁড়ানো এবং রুকুর সময় তাকবীর বলতেন। অতঃপর সিজদায় যাওয়ার পূর্বে (দাঁড়িয়ে) বলতেন “সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ” এরপর বলতেন “রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ”। তারপর সিজদা কালে তিনি আল্লাহু আকবর বলতেন।এরপর সিজদা থেকে মাথা উঠানো ও পুনরায় সিজদা কালে এবং পুনরায় সিজদা হতে মাথা উঠানোর সময় তিনি তাকবীর বলতেন। দ্বিতীয় রাকাতের বৈঠক হতে দাঁড়ানোর সময়ও তিনি তাকবীর বলতেন। প্রত্যেক রাকাতেই তিনি তাকবির বলতেন।অতঃপর সালাত শেষে তিনি বলতেনঃ সেই সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ। তোমাদের তুলনায় আমার সালাত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি (ﷺ) দুনিয়া ত্যাগের পূর্ব পর্যন্ত এভাবেই সালাত আদায় করতেন।ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, ইমাম মালিক, যুবায়দী, ও অন্যরা জুহরি হতে আলী ইবনু হুসাইনের সূত্রে এটাকে সর্বশেষ বাক্য বলেছেন। আর আবদুল আ’লা মামার হতে জুহরির সূত্রে এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন।
সহীহ : বুখারী, মুসলিমে সংক্ষেপে।
সুনানে আবু দাউদ হাদিস ৮৩৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর সালাতের বিস্তারিত পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। তিনি ফরজ ও অন্যান্য সালাতে দাঁড়ানোর সময় তাকবির বলতেন, রুকুর সময় তাকবির বলতেন, রুকু থেকে ওঠার পর সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ বলতেন এবং সিজদার আগে রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ বলতেন। এরপর সিজদায় যাওয়ার সময়, সিজদা থেকে মাথা উঠানোর সময়, আবার সিজদায় যাওয়ার সময়, সিজদা থেকে উঠার সময় এবং দুই রাকাতের বৈঠক থেকে দাঁড়ানোর সময় তাকবির বলতেন। সালাত শেষে তিনি বলেন, তাঁর সালাত রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সালাতের সাথে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই হাদিস সালাতের ধাপগুলোতে যিকর ও তাকবিরের ধারাবাহিকতা দেখায়। এতে সালাতের পদ্ধতি, তাকবিরে ইন্তিকাল এবং নববী সালাত অনুসরণের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের বিভিন্ন ধাপে তাকবির বলার পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে।
- রুকু থেকে ওঠার পর সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ বলা এসেছে।
- সিজদার আগে রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ বলার কথা আছে।
- আবু হুরাইরা (রাঃ) নিজের সালাতকে নববী সালাতের কাছাকাছি বলেছেন।
