২/১৩৬. অধ্যায়ঃ
সালাতে কেউ সূরা ফাতিহা পড়া ছেড়ে দিলে
ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়ার হাদিস
সুনানে আবু দাউদ : ৮২৩
সুনানে আবু দাউদহাদিস নম্বর ৮২৩
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ كُنَّا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ فَقَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَثَقُلَتْ عَلَيْهِ الْقِرَاءَةُ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ " لَعَلَّكُمْ تَقْرَءُونَ خَلْفَ إِمَامِكُمْ " . قُلْنَا نَعَمْ هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " لاَ تَفْعَلُوا إِلاَّ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَإِنَّهُ لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِهَا " .
‘উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পিছনে ফজরের সালাত আদায় করছিলাম। সালাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিরাআত পড়াকালে কিরাআত তাঁর জন্য ভারী হয়ে গেল। সালাত শেষে তিনি (ﷺ) বললেন, সম্ভবত তোমরা তোমাদের ইমামের পিছনে কিরাআত করেছ। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! হ্যাঁ। তখন তিনি (ﷺ) বললেন, এমনটি করো না, তবে তোমাদের সূরা ফাতিহা পড়াটা স্বতন্ত্র। কেননা যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করে না, তার সালাত হয় না।
সুনানে আবু দাউদ হাদিস ৮২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফজরের সালাতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর পিছনে সাহাবিদের কিরাআতের ঘটনা এসেছে। তিনি কিরাআত পড়ার সময় তা তাঁর জন্য ভারী হয়ে যায়। সালাত শেষে তিনি জিজ্ঞেস করেন, ইমামের পিছনে তোমরা কি কিরাআত করেছ? সাহাবিরা হ্যাঁ বললে তিনি বলেন, এমন করো না; তবে সূরা ফাতিহা পড়া আলাদা। কারণ যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করে না, তার সালাত হয় না। এই হাদিসে ইমামের পিছনে সাধারণ কিরাআত এবং সূরা ফাতিহা পাঠের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়। মূল শিক্ষা হলো, জেহরি সালাতে ইমামের কিরাআতের সময় নিজের কিরাআত যেন বিঘ্ন না ঘটায়; তবে সূরা ফাতিহার গুরুত্ব আলাদা করে বলা হয়েছে। তাই এই হাদিস সালাতে ফাতিহা পাঠ এবং ইমামের পিছনে কিরাআত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমামের পিছনে সাধারণ কিরাআতে সতর্কতা এসেছে।
- সূরা ফাতিহা পাঠকে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- সালাতে ইমামের কিরাআত বিঘ্নিত করা উচিত নয়।
- ফজরের সালাতের ঘটনা থেকে সালাতের আদব শেখা যায়।
