১/৩১. অধ্যায়ঃ
ওজু করা ফরজ
পবিত্রতা ও দান: ওযুবিহীন সালাত ও আত্মসাৎকৃত মালের সতর্কতা
সুনানে আবূ দাউদ : ৫৯
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৫৯
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَقْبَلُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ صَدَقَةً مِنْ غُلُولٍ وَلاَ صَلاَةً بِغَيْرِ طُهُورٍ " .
আবুল মালীহ (রহঃ) হতে তার পিতা সূত্রে হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ আত্মসাৎকৃত মালের দান এবং ওজুবিহীন সালাত আল্লাহ কবুল করেন না।
হাদীস থেকে শিক্ষা : ১। অবৈধ উপায়ে উপার্জিত সম্পদ দান কলে তা ক্ববূল হয় না এবং তাতে নেকীও পাওয়া যায় না।২। পবিত্রতা ছাড়া সলাত হয় না। এতে প্রমাণিত হয়, জানাযার সলাত, দু’ ঈদের সলাতসহ সমস্ত নাফল সলাত এর অন্তর্ভুক্ত। এতে আরো প্রমাণিত হয়, পবিত্রতা ছাড়া তাওয়াফও যথেষ্ট হবে না। কেননা নাবী (ﷺ) একেও সলাত বলেছেন। উযু সম্পর্কে যা জানা জরুরী :(ক) উযুর সংজ্ঞাঃ উযুর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে স্বচ্ছতা। পরিভাষায় আল্লাহর নামে পাক পানি দিয়ে শারঈ পদ্ধতিতে হাত, মুখ, পা ধৌত করা ও মাথা মাসাহ করাকে উযু বলে। উযুর ফারয চারটি। যথাঃ সম্পূর্ণ মুখ ধোয়া, কনুই পর্যন্ত হাত ধোয়া, মাথা মাসাহ করা ও টাখনু পর্যন্ত দু’ পা ধোয়া। এগুলো বাদে উযুর অবশিষ্ট সবই সুন্নাত। যেমন, কব্জি পর্যন্ত হাত ধোয়া, কুলি করা, নাকে পানি দেয়া, কান মাসাহ করা।(খ) উযু ভঙ্গের কারন : (১) পেশাব পায়খানার রাস্তা দিয়ে দেহ থেকে কোন কিছু নির্গত হলে (যেমন পেশাব, পায়খানা, কৃমি, বায়ু, মযী, ইত্যাদি), বিভিন্ন সহীহ হাদীসের আলোকে জানা যায় যে, এটাই হচ্ছে উযু ভঙ্গের প্রধান কারন। (২) যেসব কাজ করলে গোসল ফারয হয় তা ঘটলে (৩) হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে (৪) পর্দাহীন অবস্থায় লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে (৫) উটের গোশত খেলে (৬) ইস্তিহাযার রক্ত বের হলে। শায়খ আলবানী বলেন, ইস্তিহাযা ব্যতিত কম হৌক বা বেশী হৌক অন্য কোন রক্ত প্রবাহের কারনে উযু ভঙ্গ হওয়ার কোন সহীহ দলীল নেই। (৭) পেটের গণ্ডগোল, ঘুম, যৌন উত্তেজনা ইত্যাদির কারণের প্রেক্ষিতে কেউ উযু ভঙ্গ হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহে পতিত হলে পুনরায় উযু করবে। কিন্তু যদি কোন শব্দ, গন্ধ বা নিদর্শন না পান এবং নিজের উযুর ব্যাপারে নিশ্চিত থাকেন তাহলে পুনরায় উযু করার দরকার নেই। (সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানু আরবা’আ, আহমাদ, দারিমী, মুয়াত্তা মালিক, তাহক্বীক্ব মিশকাত-আলবানী ও অন্যান্য)
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুটি বিষয় একসঙ্গে এসেছে: দান এবং সালাত। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, আত্মসাৎকৃত মালের দান আল্লাহ কবুল করেন না এবং ওযুবিহীন সালাতও কবুল করেন না। এখানে “আত্মসাৎকৃত মাল” কথাটি গুরুত্বপূর্ণ; হাদিসটি দানের উৎস সম্পর্কে সতর্ক করছে। শুধু দান করলেই যথেষ্ট নয়, মালটি সঠিক পথে অর্জিত হওয়া দরকার—এই শিক্ষা বর্ণনার শব্দ থেকেই বোঝা যায়। পাশাপাশি সালাতের জন্য পবিত্রতা দরকার, ওযু ছাড়া সালাত কবুল হয় না—এ কথাও সরাসরি এসেছে। তাই এই হাদিসে পবিত্রতা শুধু শরীরের বিষয় নয়; আমল ও সম্পদের ক্ষেত্রেও সতর্কতার শিক্ষা আছে। তবে ব্যাখ্যায় আমরা হাদিসের সীমা ছাড়িয়ে অন্য সব ধরনের দানের আলোচনা করছি না; এখানে আত্মসাৎকৃত মালের দান ও ওযুবিহীন সালাতের কথাই মূল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আত্মসাৎকৃত মালের দান গ্রহণযোগ্য নয়—এ সতর্কতা এসেছে।
- ওযু ছাড়া সালাত কবুল না হওয়ার কথা সরাসরি বলা হয়েছে।
- সালাতের আগে পবিত্রতা জরুরি।
- আমলের সঙ্গে সম্পদের উৎস সম্পর্কেও সতর্কতা দরকার।
