১/৩০. অধ্যায়ঃ
রাত্রি জাগরণকারীর মিসওয়াক করা
রাতের সালাত ও মিসওয়াক: নবীজির ধারাবাহিক আমল
সুনানে আবু দাউদ : ৫৮
সুনানে আবু দাউদহাদিস নম্বর ৫৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بِتُّ لَيْلَةً عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا اسْتَيْقَظَ مِنْ مَنَامِهِ أَتَى طَهُورَهُ فَأَخَذَ سِوَاكَهُ فَاسْتَاكَ ثُمَّ تَلاَ هَذِهِ الآيَاتِ { إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لأُولِي الأَلْبَابِ } حَتَّى قَارَبَ أَنْ يَخْتِمَ السُّورَةَ أَوْ خَتَمَهَا ثُمَّ تَوَضَّأَ فَأَتَى مُصَلاَّهُ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى فِرَاشِهِ فَنَامَ مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ اسْتَيْقَظَ فَفَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى فِرَاشِهِ فَنَامَ ثُمَّ اسْتَيْقَظَ فَفَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى فِرَاشِهِ فَنَامَ ثُمَّ اسْتَيْقَظَ فَفَعَلَ مِثْلَ ذَلِكَ كُلُّ ذَلِكَ يَسْتَاكُ وَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَوْتَرَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ فُضَيْلٍ عَنْ حُصَيْنٍ قَالَ فَتَسَوَّكَ وَتَوَضَّأَ وَهُوَ يَقُولُ { إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ } حَتَّى خَتَمَ السُّورَةَ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নবী (ﷺ) এর নিকট কোন এক রাত কাটালাম। (তখন দেখলাম) তিনি ঘুম থেকে জেগে ওজুর পানি নিয়ে মিসওয়াক করলেন। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলেনঃإِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لأُولِي الأَلْبَابِ(ইন্না ফি খালকিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়াখতিলাফিল লাইলি ওয়ান্নাহারি লআয়া-তিলি উলিল আলবাব) “নিশ্চয় আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের পরিবর্তনে বুদ্ধিমান লোকদের জন্য অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে।” – (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৯০)। তিনি সূরাটি প্রায় শেষ পর্যন্ত পড়লেন অথবা শেষ করলেন।এরপর তিনি ওজু করে জায়নামাজে গিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করে বিছানায় গেলেন এবং আল্লাহ যতক্ষণ চাইলেন ততক্ষণ ঘুমিয়ে পুনরায় জাগলেন। এরপর পূর্বের ন্যায় ঐ কাজগুলো করে আবারো বিছানায় গিয়ে ঘুমালেন। অতঃপর জেগে উঠে আবার আগের মত করলেন। তারপর বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে আবার জাগলেন ও আগের মত করলেন। প্রত্যেকবারই তিনি (ঘুম থেকে জেগে) মিসওয়াক ও দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর (সর্বশেষে) বিতর সালাত পড়লেন।ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, হুসাইন ইবনু আব্দুর রহমান থেকে ইবনু ফুযাইল উপরের হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এভাবেঃ তিনি (ﷺ) মিসওয়াক এবং ওজু করার সময় এ আয়াতটি পাঠ করতে থাকেনঃإِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِএভাবে তিনি সূরাটি শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন।
সহীহ : মুসলিম।
সুনানে আবু দাউদ হাদিস ৫৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাতের সালাতের সঙ্গে মিসওয়াকের সুন্দর সম্পর্ক দেখা যায়। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তিনি এক রাতে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে ছিলেন। নবীজি ঘুম থেকে জেগে ওযুর পানি নিলেন, মিসওয়াক করলেন, এরপর সূরা আলে ইমরানের ১৯০ নম্বর আয়াত থেকে তিলাওয়াত করলেন এবং প্রায় শেষ পর্যন্ত পড়লেন অথবা শেষ করলেন। তারপর ওযু করে জায়নামাজে গিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। এরপর আবার ঘুমালেন, আবার জাগলেন এবং একই রকম করলেন। প্রত্যেকবার তিনি মিসওয়াক করতেন এবং দুই রাকাত সালাত পড়তেন। শেষে বিতর সালাত আদায় করেন। এই হাদিসে রাতের জাগরণ, মিসওয়াক, কুরআন তিলাওয়াত, ওযু, দুই রাকাত সালাত এবং বিতর—সবই সরাসরি এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতে জেগে নবীজি মিসওয়াক করতেন।
- মিসওয়াকের পর কুরআন তিলাওয়াত ও ওযুর বর্ণনা এসেছে।
- প্রত্যেক জাগরণের পর দুই রাকাত সালাতের কথা আছে।
- শেষে বিতর সালাত আদায়ের বর্ণনা এসেছে।
