২/৪৭. অধ্যায়ঃ
জামাআত পরিত্যাগের ব্যাপারে সাবধান বাণী
পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ও মসজিদের জামাআত: হিদায়াতের পথ
সুনানে আবূ দাউদ : ৫৫০
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৫৫০
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبَّادٍ الأَزْدِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الْمَسْعُودِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الأَقْمَرِ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ حَافِظُوا عَلَى هَؤُلاَءِ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنَّ فَإِنَّهُنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدَى وَإِنَّ اللَّهَ شَرَعَ لِنَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم سُنَنَ الْهُدَى وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا إِلاَّ مُنَافِقٌ بَيِّنُ النِّفَاقِ وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتَّى يُقَامَ فِي الصَّفِّ وَمَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلاَّ وَلَهُ مَسْجِدٌ فِي بَيْتِهِ وَلَوْ صَلَّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ وَتَرَكْتُمْ مَسَاجِدَكُمْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم لَكَفَرْتُمْ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তোমরা সঠিকভাবে আজানের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের প্রতি সবিশেষ নজর রাখবে। কেননা এই পাঁচ ওয়াক্ত সালাতই হচ্ছে হিদায়াতের পথ। মহান আল্লাহ তাঁর নবী (ﷺ)-এর জন্য হিদায়াতের এ পথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আমাদের (সাধারণ) ধারণা, স্পষ্ট মুনাফিক ব্যতীত কেউ জামাআত থেকে অনুপস্থিত থাকতে পারে না। আমরা তো আমাদের মধ্যে এমন লোকও দেখেছি, যারা (দুর্বলতা ও অসুস্থতার কারণে) দুইজনের উপর ভর করে (মসজিদে) যেত এবং তাকে (সালাতের) কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়া হত। তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার ঘরে তার মসজিদ (সালাতের স্থান) নেই। তোমরা যদি মসজিদে আসা বাদ দিয়ে ঘরেই (ফরজ) সালাত আদায় কর তাহলে তোমরা তোমাদের নবী (ﷺ) এর সুন্নাতকেই বর্জন করলে। আর তোমরা তোমাদের নবী (ﷺ) এর সুন্নাত ত্যাগ করলে অবশ্যই কুফরীতে জড়িয়ে পড়বে। সহীহ : মুসলিমে ( لضللتم শব্দে ’’তোমরা অবশ্যই পথভ্রষ্ট হবে’’।)
সহীহঃ মুসলিমে ___ ‘তোমরা অবশ্যই পথভ্রষ্ট হবে’ শব্দে। আর এটাই মাহফূয।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫৫০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে বলেছেন, বিশেষ করে যেখানে আযান দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এই সালাতগুলো হিদায়াতের পথের অন্তর্ভুক্ত, আর আল্লাহ তাঁর নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর জন্য হিদায়াতের পথ নির্ধারণ করেছেন। বর্ণনায় দেখা যায়, সাহাবীদের সময়ে স্পষ্ট মুনাফিক ছাড়া কেউ জামাআত থেকে অনুপস্থিত থাকত না। এমনকি দুর্বল বা অসুস্থ কেউ দুইজনের উপর ভর করে মসজিদে যেত এবং তাকে কাতারে দাঁড় করানো হতো। ঘরে সালাতের স্থান থাকলেও মসজিদ ছেড়ে ঘরে ফরজ সালাত পড়াকে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সুন্নাত ত্যাগের সঙ্গে যুক্ত করে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। সহীহ মুসলিমে পথভ্রষ্ট হওয়ার শব্দ এসেছে বলে উল্লেখ আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যেখানে আযান দেওয়া হয়, সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের যত্ন নিতে বলা হয়েছে।
- মসজিদের জামাআতকে হিদায়াতের পথের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
- সাহাবীদের সময়ে দুর্বল মানুষও জামাআতে আসার চেষ্টা করতেন।
- মসজিদের জামাআত ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা এসেছে।
