৪৩/১৫০. অধ্যায়ঃ
মুসলিম রাষ্ট্রের অমুসলিম নাগরিককে সালাম দেয়া সম্পর্কে
আস-সামু আলাইকুম শুনলে কী জবাব দেবেন
সুনানে আবু দাউদ : ৫২০৬
সুনানে আবু দাউদহাদিস নম্বর ৫২০৬
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي ابْنَ مُسْلِمٍ - عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ الْيَهُودَ إِذَا سَلَّمَ عَلَيْكُمْ أَحَدُهُمْ فَإِنَّمَا يَقُولُ السَّامُ عَلَيْكُمْ فَقُولُوا وَعَلَيْكُمْ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَكَذَلِكَ رَوَاهُ مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ وَرَوَاهُ الثَّوْرِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ قَالَ فِيهِ " وَعَلَيْكُمْ " .
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইহুদীদের কেউ তোমাদের সালাম দেয়ার সময় বলে যে “আস-সামু আলাইকুম” (السَّامُ عَلَيْكُمْ) (অর্থ : তোমাদের মৃত্যু হোক)। জবাবে তোমরা বলবে : ওয়া ‘আলাইকুম (অর্থ : তোমার উপরও তাই)। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইমাম মালিক (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু দীনার সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান সাওরীও আবদুল্লাহ ইবনু দীনার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাতে তিনি (ﷺ) বলেনঃ (জবাবে তোমরা বলবে), ওয়া ‘আলাইকুম।
সুনানে আবু দাউদ হাদিস ৫২০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানিয়েছেন, ইহুদীদের কেউ সালামের নামে কখনও ‘আস-সামু আলাইকুম’ বলত, যার অর্থ মৃত্যুর বদদোয়া। এমন অবস্থায় নবীজি উত্তেজিত বা দীর্ঘ জবাব দিতে বলেননি। তিনি সহজভাবে বলেছেন, জবাবে ‘ওয়া আলাইকুম’ বলতে। এই শিক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কেউ কথার আড়ালে কষ্টদায়ক অর্থ ব্যবহার করলে মুমিনের কাজ হলো সীমিত ও সংযত জবাব দেওয়া। এখানে সালামের জবাবের আদব শেখানো হয়েছে—যেখানে ভুল বা ক্ষতিকর শব্দ থাকলে তার মতো করে বাড়িয়ে না বলা। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) একই অর্থের আরও বর্ণনার কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে জবাব হিসেবে ‘ওয়া আলাইকুম’ এসেছে। তাই এই হাদিস সংযম, সতর্কতা ও মাপা কথার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কষ্টদায়ক কথার জবাবে সংযত থাকা উচিত।
- ‘আস-সামু আলাইকুম’ শুনলে ‘ওয়া আলাইকুম’ বলা শেখানো হয়েছে।
- সালামের শব্দ বুঝে জবাব দেওয়া দরকার।
- বিতর্ক না বাড়িয়ে সংক্ষিপ্ত জবাব দেওয়া নববী শিক্ষা।
