৪৩/৮৬. অধ্যায়ঃ
আতামার সালাত
দ্বীনি পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ার শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৯৮৭
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৯৮৭
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ زَيْدِ بْنِ أَبِي الزَّرْقَاءِ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها، قَالَتْ مَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْسُبُ أَحَدًا إِلاَّ إِلَى الدِّينِ .
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দ্বীনের সাথে সম্পৃক্ত করা ছাড়া অন্যভাবে কারো পরিচয় দিতে শুনিনি।
[৪৯৮৫] আবূ দাঊদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। সানাদের যায়িদ বিন আসলাম হাদীসটি ‘আয়িশাহ হতে শুনেননি। সুতরাং সানাদ মুনকাতি। এছাড়া সানাদে হিশাম ইবনু সাঈদ সম্পর্কে ইবনু মাঈন বলেনঃ তিনি তেমন শক্তিশালী নন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৯৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে দ্বীনের সাথে সম্পৃক্ত করা ছাড়া অন্যভাবে কারো পরিচয় দিতে শুনেননি। বর্ণনাটি ছোট, কিন্তু এর শিক্ষা গভীর। মানুষ সাধারণত বংশ, গোত্র, এলাকা, পেশা বা বাহ্যিক পরিচয় দিয়ে অন্যকে চিনিয়ে দেয়। কিন্তু নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ভাষায় দ্বীনের পরিচয় গুরুত্ব পেয়েছে। এর মানে এই নয় যে বংশ বা এলাকার পরিচয় বলা সব সময় ভুল; বরং এই হাদিসে যে দিকটি দেখা যায়, তা হলো মানুষের আসল মর্যাদা দ্বীনের সাথে জড়িত। মুসলিমের পরিচয়ে ঈমান, আমল, আল্লাহভীতি ও ভাল চরিত্র বড় বিষয়। তাই কাউকে চেনাতে বা নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে শুধু সামাজিক নাম-পরিচয়ে আটকে না থেকে দ্বীনের আলোকে মানুষকে মূল্য দিতে শেখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের আসল মর্যাদায় দ্বীনি পরিচয় বড় বিষয়।
- পরিচয় দেওয়ার ভাষাতেও নববী শিষ্টতা ছিল।
- বংশ বা বাহ্যিক পরিচয়ের চেয়ে দ্বীনকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
