৪৩/৮৫. অধ্যায়ঃ
(এই অনুচ্ছেদে কোন শিরোনাম নেই)
ইসলামে বক্তৃতার আদব ও শব্দচয়নের শিক্ষা
সুনানে আবু দাউদ : ৪৯৮১
সুনানে আবু দাউদহাদিস নম্বর ৪৯৮১
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ رُفَيْعٍ، عَنْ تَمِيمٍ الطَّائِيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ، أَنَّ خَطِيبًا، خَطَبَ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ مَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ رَشَدَ وَمَنْ يَعْصِهِمَا . فَقَالَ " قُمْ " . أَوْ قَالَ " اذْهَبْ فَبِئْسَ الْخَطِيبُ أَنْتَ " .
আদী ইবনু হাতিম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক বক্তা নবী (ﷺ)-এর উপস্থিতিতে বক্তৃতা করতে গিয়ে বলল: “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরণ করল সে সঠিক পথ পেল আর যে তাদের আদেশ অমান্য করল-এ পর্যন্ত বলার পর তিনি (ﷺ) বললেন, ওঠো। অথবা তিনি বললেন, চলে যাও। কারণ তুমি কতই না খারাপ বক্তা।
সুনানে আবু দাউদ হাদিস ৪৯৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, এক বক্তা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর উপস্থিতিতে কথা বলছিলেন। তিনি বললেন, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরণ করে সে সঠিক পথ পায়। কিন্তু পরের অংশে তিনি এমনভাবে কথা বললেন, যা নবী (صلى الله عليه وسلم) পছন্দ করেননি। তাই তিনি তাকে ওঠে যেতে বা চলে যেতে বললেন এবং তাকে খারাপ বক্তা বললেন। এখান থেকে ইসলামে বক্তৃতার আদব খুব পরিষ্কার হয়। দ্বীনের কথা বলার সময় শুধু আবেগ বা সুন্দর ভঙ্গি যথেষ্ট নয়; শব্দও ঠিক হতে হবে। আল্লাহ ও রাসূলের বিষয়ে কথা বললে ভাষা আরও বেশি সাবধানতার দাবি করে। সাধারণ কথায় ভুল হলে মানুষ বুঝে নেয়, কিন্তু ধর্মীয় বক্তব্যে অসতর্ক শব্দ মানুষের বুঝে ভুল ঢুকাতে পারে। তাই খুতবা, ওয়াজ বা ছোট বক্তব্য—সব জায়গায় জ্ঞান, ভদ্রতা ও সতর্ক ভাষা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দ্বীনের বিষয়ে কথা বলার সময় শব্দ বাছাইয়ে সতর্ক থাকা দরকার।
- ভাল উদ্দেশ্য থাকলেও ভুল ভাষা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।
- বক্তার কাজ শুধু কথা বলা নয়, সঠিকভাবে কথা বলা।
