৪৩/৫০. অধ্যায়ঃ
মৃত ব্যক্তিকে গালি দেয়া নিষেধ
মৃত ব্যক্তির সম্মান: কটূক্তি থেকে বিরত থাকুন
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৮৯৯
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৮৯৯
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا مَاتَ صَاحِبُكُمْ فَدَعُوهُ لاَ تَقَعُوا فِيهِ " .
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কোন সঙ্গী মারা গেলে তাকে ছেড়ে দাও এবং তার সম্পর্কে কটূক্তি করো না।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৮৯৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মৃত ব্যক্তির সম্মান রক্ষার সহজ কিন্তু গভীর শিক্ষা আছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, তোমাদের কোনো সঙ্গী মারা গেলে তাকে ছেড়ে দাও এবং তার সম্পর্কে কটূক্তি করো না। মানুষ মারা গেলে তার দুনিয়ার আমল শেষ হয়ে যায়। তখন তার ভুল নিয়ে মানুষের সামনে কথাবার্তা বলা, অপমান করা বা পুরনো দোষ টেনে আনা জীবিতদের জন্য ভালো আচরণ নয়। হাদিসে বলা হয়েছে, তাকে ছেড়ে দাও—অর্থাৎ মৃতের বিষয়ে অযথা আঘাতমূলক আলোচনা থেকে বিরত থাকো। এই শিক্ষা গীবত ও দোষচর্চার বিপরীত। বিশেষ করে সামাজিক আলোচনায়, স্মৃতিচারণে বা পারিবারিক কথায় মৃত ব্যক্তির দোষ বারবার বলা থেকে বাঁচা উচিত। হাদিসটি মৃতকে দোষমুক্ত ঘোষণা করতে বলে না; বরং জীবিতদের জিহ্বা সংযত করতে বলে। তার ব্যাপার আল্লাহর কাছে, আর আমাদের কাজ হলো শালীনতা রাখা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মৃত ব্যক্তির দোষ নিয়ে কটূক্তি করা থেকে বিরত থাকা দরকার।
- মৃতের বিষয়ে অযথা আঘাতমূলক আলোচনা ভালো আচরণ নয়।
- জিহ্বা সংযত রাখা জীবিতদের দায়িত্ব।
- মৃতের বিচার আল্লাহর কাছে; মানুষের কাজ শালীনতা রাখা।
