৪৩/৪৩. অধ্যায়ঃ
কেউ কাউকে অপবাদ দিলে সে তার জন্য বৈধ
মান-সম্মান সদকা: আবু দামদামের অনন্য শিক্ষা
সুনানে আবু দাউদ : ৪৮৮৬
সুনানে আবু দাউদহাদিস নম্বর ৪৮৮৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ ثَوْرٍ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ أَيَعْجَزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَكُونَ، مِثْلَ أَبِي ضَيْغَمٍ - أَوْ ضَمْضَمٍ شَكَّ ابْنُ عُبَيْدٍ - كَانَ إِذَا أَصْبَحَ قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي قَدْ تَصَدَّقْتُ بِعِرْضِي عَلَى عِبَادِكَ .
ক্বাতাদাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তোমাদের কেউ কি আবু দাইঘাম বা আবু দামদাম-এর অনুরূপ হতে অপারগ? তিনি প্রত্যেক দিনের শুরুতে বলতেন : হে আল্লাহ! আমি আমার মান-সম্মানকে তোমার বান্দাদের জন্য সদকা করলাম।
সুনানে আবু দাউদ হাদিস ৪৮৮৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবু দাইঘাম বা আবু দামদামের মতো হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তিনি দিনের শুরুতে বলতেন, হে আল্লাহ, আমি আমার মান-সম্মানকে তোমার বান্দাদের জন্য সদকা করলাম। অর্থাৎ কেউ তাকে কষ্ট দিলে, মন্দ বললে বা সম্মানহানির চেষ্টা করলে তিনি আল্লাহর জন্য তা ছেড়ে দেওয়ার মন তৈরি করতেন। এখানে শিক্ষা হলো—মানুষের কথায় প্রতিবার প্রতিশোধ নিতে গেলে মন অস্থির হয় এবং সমাজে ঝগড়া বাড়ে। তবে এই হাদিস কাউকে জুলুম করার অনুমতি দেয় না; বরং নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা, উদারতা ও আত্মসংযমের কথা বলে। মান-সম্মান সদকা করা মানে নিজের ইজ্জতকে হালকা করা নয়; বরং আল্লাহর কাছে আশা রেখে মানুষের কষ্টদায়ক কথাকে ছাড় দেওয়া। প্রতিদিন সকালে এমন মানসিক প্রস্তুতি মানুষকে গীবত, রাগ ও বদলার চক্র থেকে বাঁচাতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের কষ্টদায়ক কথা আল্লাহর জন্য ছেড়ে দেওয়া বড় আত্মসংযমের কাজ।
- ক্ষমা করা মানে জুলুমকে ভালো বলা নয়; বরং নিজের অন্তরকে বদলা থেকে বাঁচানো।
- দিনের শুরুতে ভালো নিয়ত করলে আচরণ নরম হতে পারে।
- মান-সম্মান নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া অনেক ঝগড়ার কারণ হয়।
