৪২/১৮. অধ্যায়ঃ
মুশরিকদের শিশু সন্তান সম্পর্কে
জান্নাত-জাহান্নামের অধিবাসী বিষয়ে সতর্ক শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৭১৩
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৭১৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ يَحْيَى، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَتْ أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِصَبِيٍّ مِنَ الأَنْصَارِ يُصَلِّي عَلَيْهِ قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ طُوبَى لِهَذَا لَمْ يَعْمَلْ شَرًّا وَلَمْ يَدْرِ بِهِ . فَقَالَ " أَوَغَيْرَ ذَلِكَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ اللَّهَ خَلَقَ الْجَنَّةَ وَخَلَقَ لَهَا أَهْلاً وَخَلَقَهَا لَهُمْ وَهُمْ فِي أَصْلاَبِ آبَائِهِمْ وَخَلَقَ النَّارَ وَخَلَقَ لَهَا أَهْلاً وَخَلَقَهَا لَهُمْ وَهُمْ فِي أَصْلاَبِ آبَائِهِمْ " .
আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা নবী (ﷺ)-এর নিকট জানাজার সালাতের জন্য এক আনসারী বালকের লাশ আনা হলো। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এর কি সৌভাগ্য, সে কোনো গুনাহ করেনি এবং তার বয়সও পায়নি। তিনি বললেন, হে আয়িশা! এর বিপরীত কি হতে পারে না? মহান আল্লাহ জান্নাত ও তার অধিবাসীদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা যখন তাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তখন তারা তাদের পিতাদের মেরুদণ্ডে ছিল। আবার তিনি জাহান্নাম ও তার জন্য একদল ভুক্তভোগী সৃষ্টি করেছেন এবং তা তাদের জন্য যখন তিনি সৃষ্টি করেছেন তখন তারা তাদের পিতাদের মেরুদণ্ডে ছিল।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৭১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক আনসারী বালকের জানাজা নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে আনা হয়। আয়িশা রা. বলেন, তার সৌভাগ্য, সে কোনো গুনাহ করেনি এবং সে গুনাহ জানার বয়সও পায়নি। তখন নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, এর বিপরীত কি হতে পারে না? এরপর তিনি বলেন, আল্লাহ জান্নাত সৃষ্টি করেছেন এবং তার অধিবাসীদেরও সৃষ্টি করেছেন, যখন তারা তাদের পিতাদের মেরুদণ্ডে ছিল। আবার জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন এবং তার জন্যও অধিবাসী সৃষ্টি করেছেন। এই হাদিসের ভাষা আমাদের শেখায়, মানুষের শেষ পরিণতি নিয়ে নিজের পক্ষ থেকে নিশ্চিত ঘোষণা দেওয়া সহজ বিষয় নয়। আল্লাহর জ্ঞান, তাকদীর এবং জান্নাত-জাহান্নামের ব্যাপারে বিনয় দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কোনো ব্যক্তির শেষ পরিণতি নিয়ে নিজের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কথা বলা সতর্কতার বিষয়।
- জান্নাত ও জাহান্নামের অধিবাসী আল্লাহর জ্ঞানে নির্ধারিত।
- শিশুর ব্যাপারেও নবী صلى الله عليه وسلم আল্লাহর জ্ঞানের দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন।
- আখিরাতের বিষয়ে বিনয় ও সতর্কতা রাখা দরকার।
