৪২/১৭. অধ্যায়ঃ
তাকদীর সম্পর্কে
আদম-মূসার কথোপকথনে তাকদীরের পাঠ
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৭০২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৭০২
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ مُوسَى قَالَ يَا رَبِّ أَرِنَا آدَمَ الَّذِي أَخْرَجَنَا وَنَفْسَهُ مِنَ الْجَنَّةِ فَأَرَاهُ اللَّهُ آدَمَ فَقَالَ أَنْتَ أَبُونَا آدَمُ فَقَالَ لَهُ آدَمُ نَعَمْ . قَالَ أَنْتَ الَّذِي نَفَخَ اللَّهُ فِيكَ مِنْ رُوحِهِ وَعَلَّمَكَ الأَسْمَاءَ كُلَّهَا وَأَمَرَ الْمَلاَئِكَةَ فَسَجَدُوا لَكَ قَالَ نَعَمْ . قَالَ فَمَا حَمَلَكَ عَلَى أَنْ أَخْرَجْتَنَا وَنَفْسَكَ مِنَ الْجَنَّةِ فَقَالَ لَهُ آدَمُ وَمَنْ أَنْتَ قَالَ أَنَا مُوسَى . قَالَ أَنْتَ نَبِيُّ بَنِي إِسْرَائِيلَ الَّذِي كَلَّمَكَ اللَّهُ مِنْ وَرَاءِ الْحِجَابِ لَمْ يَجْعَلْ بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ رَسُولاً مِنْ خَلْقِهِ قَالَ نَعَمْ . قَالَ أَفَمَا وَجَدْتَ أَنَّ ذَلِكَ كَانَ فِي كِتَابِ اللَّهِ قَبْلَ أَنْ أُخْلَقَ قَالَ نَعَمْ . قَالَ فَفِيمَ تَلُومُنِي فِي شَىْءٍ سَبَقَ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى فِيهِ الْقَضَاءُ قَبْلِي " . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ ذَلِكَ " فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى فَحَجَّ آدَمُ مُوسَى " .
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মূসা (আঃ) বললেন, হে রব! যে আদম (আঃ) আমাদেরকে ও তাঁর নিজেকে জান্নাত হতে বিতাড়িত করেছেন, তাঁকে আমি দেখতে চাই। অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁকে আদম (আঃ)-কে দেখালেন। তিনি বললেন, আপনিই আমাদের পিতা আদম (আঃ)? আদম (আঃ) তাঁকে বললেন, হ্যাঁ।অতঃপর তিনি বললেন, আপনি সেই মহান ব্যক্তি যাঁর মধ্যে মহান আল্লাহ তাঁর পক্ষ হতে রূহ সঞ্চার করেছেন এবং আপনাকে সকল কিছুর নাম শিখিয়েছেন, আর ফেরেশতাদেরকে হুকুম দিলে তারা আপনাকে সিজদা করেছেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি পুনরায় বললেন, আমাদেরকে ও আপনার নিজেকে জান্নাত হতে বহিষ্কার করার জন্য আপনাকে কোন বস্তু উদ্বুদ্ধ করেছিল?এবার আদম (আঃ) বললেন, তুমি কে? তিনি বললেন, আমি মূসা (আঃ)। তিনি বললেন, তুমি বনী ইসরাইলের এমন একজন নবী যাঁর সাথে আল্লাহ পর্দার অন্তরাল হতে সরাসরি কথা বলেছেন এবং তোমার ও তাঁর মাঝে সৃষ্টি জগতের কাউকে বার্তাবাহক হিসেবে গ্রহণ করেননি। তিনি বললেন, হ্যাঁ।তিনি বললেন, তুমি কি আল্লাহর কিতাবে দেখতে পাওনি যে, সেটি নির্ধারিত ছিল আমাকে সৃষ্টি করার পূর্বেই? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, যে বিষয়ে মহান আল্লাহর সিদ্ধান্ত আমার পূর্ব হতেই লিপিবদ্ধ সে ব্যাপারে আমাকে কেন অভিযুক্ত করছো? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ সুতরাং এ বিতর্কে আদম (আঃ) মূসা (আঃ)-এর উপর জয়ী হলেন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৭০২-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় মূসা আ. আল্লাহর কাছে আদম আ.-কে দেখার আবেদন করেন। আল্লাহ তাঁকে আদম আ.-কে দেখান। মূসা আ. প্রথমে আদম আ.-এর মর্যাদা উল্লেখ করেন—আল্লাহ তাঁর মধ্যে রূহ সঞ্চার করেছেন, নাম শিখিয়েছেন এবং ফেরেশতারা তাঁকে সিজদা করেছে। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করেন, জান্নাত থেকে বের হওয়ার কারণ কী ছিল। আদম আ. মূসা আ.-এর মর্যাদাও স্মরণ করিয়ে দেন যে, আল্লাহ তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। তারপর প্রশ্ন করেন, আল্লাহর কিতাবে কি এটি পূর্বেই নির্ধারিত ছিল না? মূসা আ. স্বীকার করেন। তাই আদম আ. বলেন, পূর্বে লিপিবদ্ধ বিষয়ে আমাকে কেন দোষ দিচ্ছ? এখানে তাকদীর, নবীদের মর্যাদা এবং আল্লাহর লিখিত ফয়সালার প্রতি ঈমান একসঙ্গে শেখানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীদের আলোচনা সম্মান ও সত্য কথার ভিত্তিতে হওয়া উচিত।
- আল্লাহর কিতাবে পূর্বে নির্ধারিত বিষয় মানুষের সীমিত জ্ঞানের বাইরে।
- কারও মর্যাদা স্মরণ করা আলোচনাকে ভদ্র ও ভারসাম্যপূর্ণ করে।
- তাকদীর মানে আল্লাহর জ্ঞান ও ফয়সালার প্রতি ঈমান রাখা।
