৪২/১৭. অধ্যায়ঃ
তাকদীর সম্পর্কে
তাকদীর জেনেও আমল: নবীজির পরিষ্কার শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৬৯৪
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৬৯৪
حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، قَالَ سَمِعْتُ مَنْصُورَ بْنَ الْمُعْتَمِرِ، يُحَدِّثُ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَبِيبٍ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ عَلِيٍّ، عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَالَ كُنَّا فِي جَنَازَةٍ فِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِبَقِيعِ الْغَرْقَدِ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجَلَسَ وَمَعَهُ مِخْصَرَةٌ فَجَعَلَ يَنْكُتُ بِالْمِخْصَرَةِ فِي الأَرْضِ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ " مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ مَا مِنْ نَفْسٍ مَنْفُوسَةٍ إِلاَّ قَدْ كَتَبَ اللَّهُ مَكَانَهَا مِنَ النَّارِ أَوْ مِنَ الْجَنَّةِ إِلاَّ قَدْ كُتِبَتْ شَقِيَّةً أَوْ سَعِيدَةً " . قَالَ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَفَلاَ نَمْكُثُ عَلَى كِتَابِنَا وَنَدَعُ الْعَمَلَ فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ السَّعَادَةِ لَيَكُونَنَّ إِلَى السَّعَادَةِ وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الشِّقْوَةِ لَيَكُونَنَّ إِلَى الشِّقْوَةِ قَالَ " اعْمَلُوا فَكُلٌّ مُيَسَّرٌ أَمَّا أَهْلُ السَّعَادَةِ فَيُيَسَّرُونَ لِلسَّعَادَةِ وَأَمَّا أَهْلُ الشِّقْوَةِ فَيُيَسَّرُونَ لِلشِّقْوَةِ " . ثُمَّ قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ " { فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى * وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى * فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى * وَأَمَّا مَنْ بَخِلَ وَاسْتَغْنَى * وَكَذَّبَ بِالْحُسْنَى * . فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرَى } " .
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা বাকি আল-গারকাদে এক জানাজায় ছিলাম। সেখানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও উপস্থিত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে বসলেন এবং তাঁর সঙ্গের লাঠি দিয়ে মাটির উপর আঁচর দিতে লাগলেন। অতঃপর তিনি মাথা তুলে বললেন, “তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, এমন কোন নিঃশ্বাসধারী নেই যার জাহান্নামে বা জান্নাতে নেককার ও বদকার হিসেবে ঠিকানা লিখে রাখা হয়নি।” আলী (রাঃ) বলেন, উপস্থিত জনতার মধ্য হতে একজন উঠে বলল, “হে আল্লাহর নবী! তাহলে আমরা কি আমাদের ঐ লেখার উপর নির্ভর করে আমল ছেড়ে দেবো না? তারপর যার নাম সৌভাগ্যবান হিসেবে লেখা আছে সে ভালো কাজেই অগ্রসর হবে, আর আমাদের মধ্যে যার নাম হতভাগা ও পাপিষ্ঠ হিসেবে লেখা আছে সে পাপকাজেই অগ্রসর হবে।” নবী (ﷺ) বলেন, “তোমরা আমল করতে থাকো। কেননা প্রত্যেকের জন্য সেটাই সহজ করা হয়েছে যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। যে ভাগ্যবান সৎকর্ম তার জন্য সহজ হয়, আর যে পাপিষ্ঠ তার জন্য পাপকাজ সহজ হয়।” অতঃপর আল্লাহর নবী (ﷺ) কুরআনের এ আয়াত পাঠ করলেনঃ সুতরাং দান করলে, মুত্তাকী হলে এবং যা উত্তম তা গ্রহণ করলে, আমি তার জন্য সুগম করে দিবো সহজ পথ। আর কেউ কৃপণতা করলে এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করলে, আর যা উত্তম তা বর্জন করলে আমি তার জন্য সুগম করে দিবো কঠোর পরিণতির পথ (সূরা আল-লাইলঃ ৫-১০)।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৬৯৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জানাজা উপলক্ষে নবী صلى الله عليه وسلم তাকদীর ও আমলের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের জান্নাত বা জাহান্নামের ঠিকানা এবং সৌভাগ্যবান বা হতভাগা হওয়া লিখে রাখা হয়েছে। তখন একজন প্রশ্ন করেন, তাহলে কি আমরা লিখনের ওপর ভরসা করে আমল ছেড়ে দেবো? নবীজি صلى الله عليه وسلم বলেন, তোমরা আমল করতে থাকো। কারণ প্রত্যেকের জন্য সেই পথ সহজ করা হয়, যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এরপর তিনি সূরা আল-লাইলের আয়াত পাঠ করেন, যেখানে দান, তাকওয়া ও উত্তমকে গ্রহণ করার কথা এবং কৃপণতা ও অস্বীকারের ফলের কথা এসেছে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো তাকদীরের ওপর ঈমান আমল ছেড়ে দেওয়ার অজুহাত নয়। বরং মুমিন সৎকাজ করে, আল্লাহর সাহায্য চায় এবং নিজের পথ ঠিক রাখে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাকদীরের বিশ্বাস আমল ছেড়ে দেওয়ার অজুহাত নয়।
- নবীজি صلى الله عليه وسلم স্পষ্ট বলেছেন—তোমরা আমল করতে থাকো।
- দান, তাকওয়া ও সত্য গ্রহণ সহজ পথের সঙ্গে যুক্ত।
- মানুষের দায়িত্ব হলো সৎকাজের পথে চেষ্টা করা।
