৪২/৯. অধ্যায়ঃ
খলিফাগণ সম্পর্কে
হাজ্জাজের মিম্বারের কঠোর ভাষণ ও হুমকি
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৬৪৩
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৬৪৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، عَنْ عَاصِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ الْحَجَّاجَ، وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ اتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ لَيْسَ فِيهَا مَثْنَوِيَّةٌ وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا لَيْسَ فِيهَا مَثْنَوِيَّةٌ لأَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عَبْدِ الْمَلِكِ وَاللَّهِ لَوْ أَمَرْتُ النَّاسَ أَنْ يَخْرُجُوا مِنْ بَابٍ مِنْ أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ فَخَرَجُوا مِنْ بَابٍ آخَرَ لَحَلَّتْ لِي دِمَاؤُهُمْ وَأَمْوَالُهُمْ وَاللَّهِ لَوْ أَخَذْتُ رَبِيعَةَ بِمُضَرَ لَكَانَ ذَلِكَ لِي مِنَ اللَّهِ حَلاَلاً وَيَا عَذِيرِي مِنْ عَبْدِ هُذَيْلٍ يَزْعُمُ أَنَّ قِرَاءَتَهُ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا هِيَ إِلاَّ رَجَزٌ مِنْ رَجَزِ الأَعْرَابِ مَا أَنْزَلَهَا اللَّهُ عَلَى نَبِيِّهِ عَلَيْهِ السَّلاَمُ وَعَذِيرِي مِنْ هَذِهِ الْحَمْرَاءِ يَزْعُمُ أَحَدُهُمْ أَنَّهُ يَرْمِي بِالْحَجَرِ فَيَقُولُ إِلَى أَنْ يَقَعَ الْحَجَرُ قَدْ حَدَثَ أَمْرٌ فَوَاللَّهِ لأَدَعَنَّهُمْ كَالأَمْسِ الدَّابِرِ . قَالَ فَذَكَرْتُهُ لِلأَعْمَشِ فَقَالَ أَنَا وَاللَّهِ سَمِعْتُهُ مِنْهُ .
আসিম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি হাজ্জাজকে মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছিঃ তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো, এতে কোন ব্যতিক্রম নেই। আর আমীরুল মু’মিনীন আব্দুল মালিকের (আদেশ) শোনো এবং অনুসরণ করো, এতেও কোন ব্যতিক্রম নেই।আল্লাহর কসম! আমি লোকদেরকে যদি মসজিদের এক দরজা দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেই এবং তারা অন্য দরজা দিয়ে বের হয়, তাহলে আমার জন্য তাদের রক্ত ও সম্পদ বৈধ। আল্লাহর কসম! যদি আমি রাবিয়া গোত্রকে মুদার গোত্রের অপরাধের জন্য শাস্তি দেই এটাও আমার জন্য আল্লাহর পক্ষ হতে বৈধ।হুযাইল পুত্র মনে করে যে, সে যেভাবে কুরআন পড়ে তা আল্লাহর পক্ষ হতে। আল্লাহর কসম! তা তো বেদুঈনদের সঙ্গীতমালার মধ্যকার সঙ্গীতমাত্র। তা আল্লাহ তাঁর নবীর (ﷺ) উপর নাযিল করেননি।অনারব লোকদের পক্ষ হতে কে আমার নিকট ওজরখাহী করবে। তাদের মধ্যকার কেউ পাথর নিক্ষেপ করে, অতঃপর বলে, দ্যাখো! এই পাথর কতো দূর গিয়ে পৌঁছে। সে একটি নতুন ঘটনার জন্ম দিলো। আল্লাহর কসম! আমি তাদেরকে গতকালের ন্যায় নিশ্চিহ্ন করবো।বর্ণনাকারী বলেন, আমি কথাগুলো আল-আ‘মাশ (রহঃ) -এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমিও তাঁকে কথাগুলো বলতে শুনেছি।
সনদ সহিহ - হাজ্জাজ পর্যন্ত।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৬৪৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় হাজ্জাজ মিম্বারে দাঁড়িয়ে প্রথমে বলে, তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো। এরপর আমীরুল মু’মিনীন আবদুল মালিকের কথা শোনা ও মানার কথা বলে। কিন্তু তার ভাষণে খুব কঠোর হুমকিও ছিল। সে বলে, যদি সে মানুষকে মসজিদের এক দরজা দিয়ে বের হতে বলে আর তারা অন্য দরজা দিয়ে বের হয়, তাহলে তাদের রক্ত ও সম্পদ তার জন্য বৈধ। সে আরও বলে, রাবিয়া গোত্রকে মুদার গোত্রের অপরাধে ধরলেও তা তার জন্য বৈধ। এরপর সে হুযাইল পুত্রের কুরআন পাঠ নিয়ে কড়া কথা বলে এবং অনারবদের বিষয়েও কঠোর হুমকি দেয়। শেষে বর্ণনাকারী আল-আ‘মাশকে বিষয়টি বললে তিনিও বলেন, তিনি হাজ্জাজের মুখে এসব শুনেছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভাষণের শব্দ ঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে ঘটনার রূপ পরিষ্কার থাকে।
- তাকওয়া ও আনুগত্যের কথা বলা হলেও বর্ণনায় কঠোর হুমকির কথাও এসেছে।
- একজন রাবীর বর্ণনা আরেকজন শ্রোতার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
- কুরআন পাঠ ও মানুষের সম্মান নিয়ে কথা বলার সময় সতর্কতা প্রয়োজন।
