৪১/৮. অধ্যায়ঃ

সম্মিলিত কসম সম্পর্কে

কাসামাহর হাদিস: পঞ্চাশ কসম ও দিয়াত

সুনানে আবু দাউদহাদিস নম্বর ৪৫২০

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمَةَ، وَرَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، أَنَّ مُحَيِّصَةَ بْنَ مَسْعُودٍ، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ، انْطَلَقَا قِبَلَ خَيْبَرَ فَتَفَرَّقَا فِي النَّخْلِ فَقُتِلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَهْلٍ فَاتَّهَمُوا الْيَهُودَ فَجَاءَ أَخُوهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ وَابْنَا عَمِّهِ حُوَيِّصَةُ وَمُحَيِّصَةُ فَأَتَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَتَكَلَّمَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ فِي أَمْرِ أَخِيهِ وَهُوَ أَصْغَرُهُمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ الْكُبْرَ الْكُبْرَ ‏"‏ ‏.‏ أَوْ قَالَ ‏"‏ لِيَبْدَإِ الأَكْبَرُ ‏"‏ ‏.‏ فَتَكَلَّمَا فِي أَمْرِ صَاحِبِهِمَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ يُقْسِمُ خَمْسُونَ مِنْكُمْ عَلَى رَجُلٍ مِنْهُمْ فَيُدْفَعُ بِرُمَّتِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا أَمْرٌ لَمْ نَشْهَدْهُ كَيْفَ نَحْلِفُ قَالَ ‏"‏ فَتُبَرِّئُكُمْ يَهُودُ بِأَيْمَانِ خَمْسِينَ مِنْهُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَوْمٌ كُفَّارٌ ‏.‏ قَالَ فَوَدَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ قِبَلِهِ ‏.‏ قَالَ قَالَ سَهْلٌ دَخَلْتُ مِرْبَدًا لَهُمْ يَوْمًا فَرَكَضَتْنِي نَاقَةٌ مِنْ تِلْكَ الإِبِلِ رَكْضَةً بِرِجْلِهَا ‏.‏ قَالَ حَمَّادٌ هَذَا أَوْ نَحْوَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ وَمَالِكٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ قَالَ فِيهِ ‏"‏ أَتَحْلِفُونَ خَمْسِينَ يَمِينًا وَتَسْتَحِقُّونَ دَمَ صَاحِبِكُمْ أَوْ قَاتِلِكُمْ ‏"‏ وَلَمْ يَذْكُرْ بِشْرٌ دَمًا وَقَالَ عَبْدَةُ عَنْ يَحْيَى كَمَا قَالَ حَمَّادٌ وَرَوَاهُ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ يَحْيَى فَبَدَأَ بِقَوْلِهِ ‏"‏ تُبَرِّئُكُمْ يَهُودُ بِخَمْسِينَ يَمِينًا يَحْلِفُونَ ‏"‏ ‏.‏ وَلَمْ يَذْكُرِ الاِسْتِحْقَاقَ قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا وَهَمٌ مِنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ ‏.‏

সাহল ইবনু আবূ হাসমা ও রাফি’ ইবনু খাদীজা (রাঃ) সূত্র হতে বর্ণিতঃ

মুহাইয়িসা ইবন মাসউদ ও আবদুল্লাহ ইবন সাহল (রাঃ) দুজনেই খায়বারে উপনীত হয়ে খেজুর বাগানের মধ্যে পৃথক হয়ে গেলেন। আবদুল্লাহ ইবন সাহল নিহত হলে তারা এজন্য ইহুদি গোত্রকে দায়ী করল।অতঃপর তাঁর ভাই আবদুর রহমান ইবন সাহল ও তাঁর দুইজন চাচাতো ভাই হুওয়াইসা ও মুহাইয়িসা একত্রে নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হলেন এবং ভাইয়ের ব্যাপারে আলাপ শুরু করল। বস্তুত সে তাদের মধ্যে বয়সে ছোট ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন; যে বড়, অর্থাৎ যে বয়সে বড় তাকে আগে কথা বলতে দাও। অথবা তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড় তারই শুরু করা উচিত। অতঃপর তাঁরা দু’জনে তাঁদের সাথীর (নিহতের) বিষয়ে আলাপ করল।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাদের মধ্য হতে কোন ব্যক্তির দায়ী হওয়ার ব্যাপারে তোমাদের মধ্য হতে পঞ্চাশজনকে কসম করতে হবে; অতঃপর কিসাস নেয়ার জন্য আসামিকে সোপর্দ করা হবে। তারা বলল, আমরা কিভাবে কসম করব, আমরা তো উপস্থিত ছিলাম না! তিনি বললেন, তাহলে তাদের মধ্য হতে পঞ্চাশ ব্যক্তির কসম গ্রহণের মাধ্যমে ইহুদীরা তোমাদের হতে অভিযোগমুক্ত হবে। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এরা তো কাফির সম্প্রদায়। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের পক্ষ থেকে দিয়াত পরিশোধ করলেন।সাহল (রাঃ) বলেন, আমি একদিন তাদের উটের বাথানে গিয়েছিলাম, ঐ উটগুলোর মধ্যকার একটা মাদি উট আমাকে পা দিয়ে সজোরে লাথি মেরেছিল। হাম্মাদ (রহঃ)-ও একইরূপ বর্ণনা করেন।ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদিস বিশর ইবনু মুফাদ্দাল ও মালিক ইবন ইয়াহিয়া ইবন সাঈদ হতে বর্ণনা করেছেন। সেখানে রয়েছে: তোমরা কি পঞ্চাশটি কসম খেয়ে তোমাদের হত্যাকারীর রক্তের অধিকারী হবে? কিন্তু বিশর (রহঃ) তাঁর বর্ণনায় রক্ত শব্দটি বলেননি।

সুনানে আবু দাউদ হাদিস ৪৫২০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে খায়বারে আবদুল্লাহ ইবন সাহল রা.-এর নিহত হওয়ার ঘটনা এসেছে। তাঁর সঙ্গীরা ইহুদিদের দায়ী করে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে আসেন। ছোটজন আগে কথা শুরু করলে নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, বয়সে বড়জন আগে কথা বলুক। এরপর তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণে তাদের পক্ষ থেকে পঞ্চাশজন কসম করবে, তারপর আসামিকে সোপর্দ করা হবে। তারা বলে, আমরা তো ঘটনাস্থলে ছিলাম না, কীভাবে কসম করব? তখন নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তাহলে ইহুদিদের পঞ্চাশজন কসম করে অভিযোগ থেকে মুক্ত হবে। তারা এ নিয়েও আপত্তি জানায়। শেষে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم নিজের পক্ষ থেকে দিয়াত পরিশোধ করেন। এই হাদিসে কাসামাহ, হত্যা মামলায় কসমের ভূমিকা, বড়দের আগে কথা বলার আদব এবং রক্তপাতের বিবাদে দায়িত্বশীল সমাধান—এসব শিক্ষা এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বয়সে বড়জনকে আগে কথা বলার আদব শেখানো হয়েছে।
  • হত্যার অভিযোগে কসমের একটি বিচারিক পদ্ধতি এসেছে।
  • যে ঘটনা দেখা হয়নি, সে বিষয়ে কসম করতে তারা সংকোচ করেছে।
  • নবী صلى الله عليه وسلم নিজের পক্ষ থেকে দিয়াত দিয়ে বিবাদ থামানোর পথ নিয়েছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন