৪১/৪. অধ্যায়ঃ
ইচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রে অভিভাবক দিয়াত গ্রহণ করলে
ইচ্ছাকৃত হত্যা: কিসাস না দিয়াত
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৫০৬
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৫০৬
حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَاشِدٍ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يُقْتَلُ مُؤْمِنٌ بِكَافِرٍ وَمَنْ قَتَلَ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا دُفِعَ إِلَى أَوْلِيَاءِ الْمَقْتُولِ فَإِنْ شَاءُوا قَتَلُوهُ وَإِنْ شَاءُوا أَخَذُوا الدِّيَةَ " .
‘আমর ইবনু শু’আইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্র হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ কাফির হত্যার দায়ে মুমিনকে হত্যা করা যাবে না। কেউ মুমিন ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করলে তাকে নিহতের ওয়ারিসদের নিকট সোপর্দ করা হবে। তারা চাইলে তাকে হত্যা করবে অথবা দিয়াত গ্রহণ করবে।
[৪৫০৫] তিরমিযী, ইবনু মাজাহ।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৫০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم দুইটি বিষয় বলেছেন। প্রথমত, কাফির হত্যার দায়ে মুমিনকে হত্যা করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, কেউ যদি কোনো মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, তাহলে হত্যাকারীকে নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসদের কাছে সোপর্দ করা হবে। তারা চাইলে কিসাস চাইবে, আর চাইলে দিয়াত গ্রহণ করবে। এই হাদিসে ইচ্ছাকৃত হত্যার গুরুতর অবস্থান এবং নিহতের পরিবারের অধিকার একসঙ্গে এসেছে। এখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ওয়ারিসদের হাতে দেওয়া হয়েছে, তবে তা বিচারিক নিয়মের মধ্যে। হাদিসটি রক্তপাতের ব্যাপারে সতর্ক করে এবং দেখায়, ইসলাম হত্যার বিষয়কে হালকা করে না। একই সঙ্গে দিয়াতের সুযোগ রেখে রক্তপাত কমানোর পথও রেখেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইচ্ছাকৃত হত্যা খুব গুরুতর অপরাধ হিসেবে এসেছে।
- নিহতের ওয়ারিস চাইলে কিসাস বা দিয়াতের পথ নিতে পারে।
- হত্যার বিচার নিয়মের অধীনে হওয়া উচিত, আবেগের বশে নয়।
- রক্তপাতের সিদ্ধান্তে নিহত পরিবারের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
