৪০/২৮. অধ্যায়ঃ
যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সঙ্গে ব্যভিচার করে
স্ত্রীর দাসীর ঘটনায় ফয়সালার শিক্ষা
সুনানে আবু দাউদ : ৪৪৫৮
সুনানে আবু দাউদহাদিস নম্বর ৪৪৫৮
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبَانُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ خَالِدِ بْنِ عُرْفُطَةَ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ، أَنَّ رَجُلاً، يُقَالُ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حُنَيْنٍ وَقَعَ عَلَى جَارِيَةِ امْرَأَتِهِ فَرُفِعَ إِلَى النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ وَهُوَ أَمِيرٌ عَلَى الْكُوفَةِ فَقَالَ لأَقْضِيَنَّ فِيكَ بِقَضِيَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنْ كَانَتْ أَحَلَّتْهَا لَكَ جَلَدْتُكَ مِائَةً وَإِنْ لَمْ تَكُنْ أَحَلَّتْهَا لَكَ رَجَمْتُكَ بِالْحِجَارَةِ . فَوَجَدُوهُ قَدْ أَحَلَّتْهَا لَهُ فَجَلَدَهُ مِائَةً . قَالَ قَتَادَةُ كَتَبْتُ إِلَى حَبِيبِ بْنِ سَالِمٍ فَكَتَبَ إِلَىَّ بِهَذَا .
হাবীব ইবনু সালিম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আব্দুর রহমান ইবন হুনাইন নামে জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সঙ্গে সঙ্গম করে। বিষয়টি কুফার গভর্নর নু'মান ইবনু বশীর (রাঃ)-এর নিকট পেশ করা হলে তিনি বলেন, আমি আবশ্যই তোমার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ফয়সালার মতই ফয়সালা করবো। তোমার স্ত্রী যদি এ দাসীকে তোমার জন্য বৈধ করে দিয়ে থাকে, তবে আমি তোমাকে একশো বেত্রাঘাত করবো, আর যদি তোমার জন্য বৈধ না করে থাকে, তাহলে তোমাকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করবো। পরে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, তার স্ত্রী দাসীকে তার জন্য বৈধ করে দিয়েছে। কাজেই তিনি তাকে একশো বেত্রাঘাত করেন। কাতাদা (রহঃ) বলেন, আমি হাবীব ইবনু সালিমের নিকট চিঠি লিখলে তিনি এ হাদীসটি লিখে পাঠান।
[৪৪৫৭] তিরমিযী, ইবনু মাজাহ। ইমাম তিরমিযী বলেনঃ সানাদে উলটপালট হয়েছে। আমি ইমাম বুখারীকে বলতে শুনেছি, ক্বাতাদাহ হাদীসটি হাবীব ইবনু সালিম হতে শুনেননি।
সুনানে আবু দাউদ হাদিস ৪৪৫৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আব্দুর রহমান ইবনু হুনাইন নামে এক ব্যক্তির ঘটনা এসেছে। সে তার স্ত্রীর দাসীর সঙ্গে সঙ্গম করে। বিষয়টি কুফার গভর্নর নু‘মান ইবনু বশীর রা.-এর কাছে উঠলে তিনি বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর ফয়সালার মতো ফয়সালা করবেন। যদি স্ত্রী দাসীকে তার জন্য বৈধ করে দিয়ে থাকে, তবে একশো বেত্রাঘাত করা হবে; আর যদি বৈধ না করে থাকে, তবে রজম করা হবে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্ত্রী দাসীকে তার জন্য বৈধ করেছিল; তাই তাকে একশো বেত্রাঘাত করা হয়। এটি ঐ সময়ের দাসপ্রথা সম্পর্কিত বিচারিক বর্ণনা। ইসলামী স্কলারদের মতে, এ ধরনের দণ্ড বিচার কর্তৃপক্ষের বিষয়; ব্যক্তিগতভাবে প্রয়োগের সুযোগ নয়। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, সম্পর্ক, অনুমতি ও বিচারিক যাচাইকে আলাদা করে দেখা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিচারে ঘটনার বাস্তব অবস্থা যাচাই করা হয়েছে।
- স্ত্রীর অনুমতির বিষয়টি ফয়সালায় প্রভাব ফেলেছে বলে বর্ণনায় এসেছে।
- শাস্তি কর্তৃপক্ষের ফয়সালা হিসেবে এসেছে।
- একই বিষয়ে হাদিসের চিঠি-ভিত্তিক সংরক্ষণের কথাও বর্ণনায় আছে।
