৪০/২৩. অধ্যায়ঃ
রজম সম্পর্কে
যিনার শাস্তির আয়াত সম্পর্কে বর্ণনা
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৪১৩
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৪১৩
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ ثَابِتٍ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ { وَاللاَّتِي يَأْتِينَ الْفَاحِشَةَ مِنْ نِسَائِكُمْ فَاسْتَشْهِدُوا عَلَيْهِنَّ أَرْبَعَةً مِنْكُمْ فَإِنْ شَهِدُوا فَأَمْسِكُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ حَتَّى يَتَوَفَّاهُنَّ الْمَوْتُ أَوْ يَجْعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلاً } وَذَكَرَ الرَّجُلَ بَعْدَ الْمَرْأَةِ ثُمَّ جَمَعَهُمَا فَقَالَ { وَاللَّذَانِ يَأْتِيَانِهَا مِنْكُمْ فَآذُوهُمَا فَإِنْ تَابَا وَأَصْلَحَا فَأَعْرِضُوا عَنْهُمَا } فَنَسَخَ ذَلِكَ بِآيَةِ الْجَلْدِ فَقَالَ { الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ } .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর বাণী: ’’তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা অশ্লীল কাজ করে, তবে তোমাদের মধ্যে হতে চার ব্যক্তিকে তাদের ওপর সাক্ষী দাঁড় করাও। অতঃপর তারা সাক্ষ্য দিলে তাদেরকে ঘরে আবদ্ধ করে রাখো, যতক্ষণ না মৃত্যু তাদের অবসান ঘটায় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোনো পথ বের করেন” (সূরা আন-নিসা : ১৫)। মেয়েদের সম্পর্কে একথা বলে পুরুষদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, অতঃপর উভয়ের সম্পর্কে একত্রে আলোচনা করেছেন: ’’আর তোমাদের মধ্যে দু’জন নারী-পুরুষ যদি এ অশ্লীল কাজ করে, তবে তাদের শাসন করো। অতঃপর তারা যদি তওবা করে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করে নেয়, তবে তাদেরকে ছেড়ে দাও” (সূরা আন-নিসা : ১৬)। উপরোক্ত আয়াতের নির্দেশ ‘বেত্রাঘাত’ সংক্রান্ত আয়াত দ্বারা রহিত হয়েছে। অতএব আল্লাহর বাণী: ’’ব্যভিচারিনী এবং ব্যভিচারী, তাদের প্রত্যেককে একশো বেত্রাঘাত করো” (সূরা আন-নূর : ২)।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূরা আন-নিসার দুইটি আয়াতের কথা উল্লেখ করেন। প্রথমে অশ্লীল কাজে লিপ্ত নারীদের ক্ষেত্রে চারজন সাক্ষী আনার কথা এবং ঘরে আবদ্ধ রাখার নির্দেশ ছিল। পরে পুরুষ ও নারী উভয়ের বিষয়ে তওবা ও সংশোধনের কথাও আসে। এরপর তিনি বলেন, এই নির্দেশ বেত্রাঘাতের আয়াত দ্বারা রহিত হয়েছে। তারপর সূরা আন-নূরের আয়াত উল্লেখ করা হয়: ব্যভিচারিনী ও ব্যভিচারী—প্রত্যেককে একশো বেত্রাঘাত করো। এই হাদিসে যিনার শাস্তি, চার সাক্ষী, তওবা, সংশোধন এবং আয়াতের বিধান পরিবর্তনের কথা এসেছে। ব্যাখ্যা কেবল বর্ণিত আয়াত ও কথার মধ্যে সীমিত রাখা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অশ্লীল কাজের অভিযোগে সাক্ষ্যের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
- তওবা ও সংশোধনের কথা আয়াতে এসেছে।
- ইবনু আব্বাস (রাঃ) বেত্রাঘাতের আয়াত দ্বারা আগের নির্দেশ রহিত হওয়ার কথা বলেন।
