২/১১. অধ্যায়ঃ

কেউ সালাতের ওয়াক্তে ঘুমিয়ে থাকলে বা সালাতের কথা ভুলে গেলে

ঘুমে ফজর ছুটে গেলে সুন্নাত ও ফরজ সালাত আদায়ের শিক্ষা

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৩৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ شَيْبَانَ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ سُمَيْرٍ، قَالَ قَدِمَ عَلَيْنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَبَاحٍ الأَنْصَارِيُّ مِنَ الْمَدِينَةِ وَكَانَتِ الأَنْصَارُ تُفَقِّهُهُ - فَحَدَّثَنَا قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو قَتَادَةَ الأَنْصَارِيُّ فَارِسُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَيْشَ الأُمَرَاءِ بِهَذِهِ الْقِصَّةِ ‏.‏ قَالَ فَلَمْ تُوقِظْنَا إِلاَّ الشَّمْسُ طَالِعَةً فَقُمْنَا وَهِلِينَ لِصَلاَتِنَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ رُوَيْدًا رُوَيْدًا ‏"‏ ‏.‏ حَتَّى إِذَا تَعَالَتِ الشَّمْسُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَنْ كَانَ مِنْكُمْ يَرْكَعُ رَكْعَتَىِ الْفَجْرِ فَلْيَرْكَعْهُمَا ‏"‏ ‏.‏ فَقَامَ مَنْ كَانَ يَرْكَعُهُمَا وَمَنْ لَمْ يَكُنْ يَرْكَعُهُمَا فَرَكَعَهُمَا ثُمَّ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُنَادَى بِالصَّلاَةِ فَنُودِيَ بِهَا فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى بِنَا فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ ‏"‏ أَلاَ إِنَّا نَحْمَدُ اللَّهَ أَنَّا لَمْ نَكُنْ فِي شَىْءٍ مِنْ أُمُورِ الدُّنْيَا يَشْغَلُنَا عَنْ صَلاَتِنَا وَلَكِنَّ أَرْوَاحَنَا كَانَتْ بِيَدِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَأَرْسَلَهَا أَنَّى شَاءَ فَمَنْ أَدْرَكَ مِنْكُمْ صَلاَةَ الْغَدَاةِ مِنْ غَدٍ صَالِحًا فَلْيَقْضِ مَعَهَا مِثْلَهَا ‏"‏ ‏.

খালিদ ইবনু সুমাইর হতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনু রাবাহ আল-আনসারি (রাঃ) মদিনা থেকে আমাদের এখানে আসলেন। আনসারগণ তাকে জ্ঞানী লোক (বিশিষ্ট ফকীহ) হিসেবে গণ্য করতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঘোড়া রক্ষক আবু কাতাদা আল-আনসারি (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুতার যুদ্ধে সামরিক বাহিনী প্রেরণ করলেন। তারপর পূর্ববর্তী হাদিসের অনুরূপ।বর্ণনাকারী আবু কাতাদা (রাঃ) বলেন, সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ঘুম ভাঙ্গল না। অতঃপর আমরা সালাতের জন্য অস্থির ও ভীত অবস্থায় জাগ্রত হলাম। নবী (ﷺ) বললেনঃ শান্ত হও, শান্ত হও। এমনকি সূর্য উঁচুতে উঠে গেল।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের মধ্যকার যারা ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত আদায়ে অভ্যস্ত তারা যেন তা আদায় করে নেয়। এ কথা শুনে যারা ঐ দুই রাকাত সুন্নাত আদায় করত এবং যারা আদায় করত না তারা সকলেই দুই রাকাত সুন্নাত আদায় করে নিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতের আজান দেয়ার নির্দেশ দিলে আজান দেয়া হলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন এবং সালাত শেষে বললেনঃ জেনে রাখ, আমরা আল্লাহরই প্রশংসা করছি, দুনিয়ার কোন কাজ আমাদেরকে আমাদের সালাত থেকে বিরত রাখেনি। বরং আমাদের রুহগুলো আল্লাহর হাতে নিবন্ধ ছিল। তিনি স্বীয় ইচ্ছা মোতাবেক তা ছেড়েছেন।অতএব তোমাদের কেউ আগামীকাল নির্ধারিত সময়ে ফজরের সালাত পেলে সে যেন তার সাথে অনুরূপ আরেক ওয়াক্ত সালাত (অর্থাৎ এ কাজা সালাতটিও) আদায় করে নেয়।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৩৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আগের ঘটনার অনুরূপ আরেকটি বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে। আবু কাতাদা (রাঃ) বলেন, সূর্য ওঠা পর্যন্ত তাঁদের ঘুম ভাঙেনি। জেগে তাঁরা সালাতের জন্য ভীত ও অস্থির হয়ে পড়েন। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, শান্ত হও, শান্ত হও। সূর্য কিছুটা উপরে উঠলে তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত পড়ত, তারা যেন তা পড়ে নেয়। এরপর সবাই দুই রাকাত পড়ে। তারপর আজানের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। শেষে তিনি বলেন, দুনিয়ার কোনো কাজ তাঁদের সালাত থেকে বিরত রাখেনি; বরং তাঁদের রূহ আল্লাহর হাতে ছিল। এই হাদিসে ঘুমে ফজর ছুটে গেলে আতঙ্ক নয়, বরং নিয়ম মেনে সালাত আদায়ের শিক্ষা এসেছে। ফজরের সুন্নাত, আজান এবং জামাতে ফরজ—সবই এখানে স্পষ্ট।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ঘুমে ফজর ছুটে গেলে অস্থির না হয়ে সালাতের প্রস্তুতি নিতে হবে।
  • ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত আদায়ের বর্ণনা এসেছে।
  • আজান দিয়ে জামাতে ফজর আদায়ের কথা রয়েছে।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) বিষয়টিকে দুনিয়ার কাজে অবহেলা হিসেবে গণ্য করেননি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন