৩৫/১৬. অধ্যায়ঃ
গোঁফ ছাঁটা
ফিতরাতের পরিচ্ছন্নতা ও চল্লিশ দিনের সময়সীমা
সুনানে আবূ দাউদ : ৪২০০
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪২০০
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ الدَّقِيقِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ وَقَّتَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَلْقَ الْعَانَةِ وَتَقْلِيمَ الأَظْفَارِ وَقَصَّ الشَّارِبِ وَنَتْفَ الإِبْطِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا مَرَّةً . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِي عِمْرَانَ عَنْ أَنَسٍ لَمْ يَذْكُرِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ وُقِّتَ لَنَا وَهَذَا أَصَحُّ .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের জন্য সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন অন্তত চল্লিশ দিনে একবার নাভির নিচের লোম কামাতে, নখ কাটতে, মোঁচ ছাঁটতে এবং বগলের লোম উপড়ে ফেলতে। ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, হাদীসটি জা'ফার ইবন সুলাইমান হতে আবু ইমরান থেকে আনাস (রাঃ) সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। এ সূত্রে বর্ণনাকারী ‘নবী (ﷺ) বলেন’ এরূপ বর্ণনা করেননি, বরং বর্ণনা করেছেন এভাবেঃ আমাদের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এটাই অধিক সহীহ।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪২০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন, তাঁদের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে—নাভির নিচের লোম কামানো, নখ কাটা, মোঁচ ছাঁটা এবং বগলের লোম উপড়ে ফেলার জন্য অন্তত চল্লিশ দিনে একবার। হাদিসটি শরীরের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা নিয়ে খুব ব্যবহারিক নির্দেশনা দেয়। এখানে চারটি কাজের কথা এসেছে, যা ফিতরাতের পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত। বর্ণনার শেষে ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) আরেকটি সূত্রের কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, সেখানে “নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন” এভাবে নেই; বরং “আমাদের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে” বলা হয়েছে, আর এটিই অধিক সহীহ। তাই এই হাদিস পড়ার সময় মূল শিক্ষা হলো, এসব পরিচ্ছন্নতার কাজ দীর্ঘদিন ফেলে রাখা উচিত নয়; চল্লিশ দিনের সময়সীমা বিশেষভাবে উল্লেখিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নাভির নিচের লোম, নখ, মোঁচ ও বগলের লোমের পরিচ্ছন্নতার কথা এসেছে।
- এসব কাজের জন্য চল্লিশ দিনের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।
- নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা মুসলিম জীবনের ব্যবহারিক আদবের অংশ।
- ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বর্ণনার সূত্র সম্পর্কে সতর্ক মন্তব্য করেছেন।
