৩৪/২৭. অধ্যায়ঃ
লুঙ্গি-পাজামা পায়ের টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরার পরিণতি
সালাম ও আখলাকের সুন্দর শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ৪০৮৪
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪০৮৪
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ أَبِي غِفَارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيُّ، - وَأَبُو تَمِيمَةَ اسْمُهُ طَرِيفُ بْنُ مُجَالِدٍ - عَنْ أَبِي جُرَىٍّ، جَابِرِ بْنِ سُلَيْمٍ قَالَ رَأَيْتُ رَجُلاً يَصْدُرُ النَّاسُ عَنْ رَأْيِهِ، لاَ يَقُولُ شَيْئًا إِلاَّ صَدَرُوا عَنْهُ قُلْتُ مَنْ هَذَا قَالُوا هَذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قُلْتُ عَلَيْكَ السَّلاَمُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَرَّتَيْنِ . قَالَ " لاَ تَقُلْ عَلَيْكَ السَّلاَمُ . فَإِنَّ عَلَيْكَ السَّلاَمُ تَحِيَّةُ الْمَيِّتِ قُلِ السَّلاَمُ عَلَيْكَ " . قَالَ قُلْتُ أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَنَا رَسُولُ اللَّهِ الَّذِي إِذَا أَصَابَكَ ضُرٌّ فَدَعَوْتَهُ كَشَفَهُ عَنْكَ وَإِنْ أَصَابَكَ عَامُ سَنَةٍ فَدَعَوْتَهُ أَنْبَتَهَا لَكَ وَإِذَا كُنْتَ بِأَرْضٍ قَفْرَاءَ أَوْ فَلاَةٍ فَضَلَّتْ رَاحِلَتُكَ فَدَعَوْتَهُ رَدَّهَا عَلَيْكَ " . قُلْتُ اعْهَدْ إِلَىَّ . قَالَ " لاَ تَسُبَّنَّ أَحَدًا " . قَالَ فَمَا سَبَبْتُ بَعْدَهُ حُرًّا وَلاَ عَبْدًا وَلاَ بَعِيرًا وَلاَ شَاةً . قَالَ " وَلاَ تَحْقِرَنَّ شَيْئًا مِنَ الْمَعْرُوفِ وَأَنْ تُكَلِّمَ أَخَاكَ وَأَنْتَ مُنْبَسِطٌ إِلَيْهِ وَجْهُكَ إِنَّ ذَلِكَ مِنَ الْمَعْرُوفِ وَارْفَعْ إِزَارَكَ إِلَى نِصْفِ السَّاقِ فَإِنْ أَبَيْتَ فَإِلَى الْكَعْبَيْنِ وَإِيَّاكَ وَإِسْبَالَ الإِزَارِ فَإِنَّهَا مِنَ الْمَخِيلَةِ وَإِنَّ اللَّهَ لاَ يُحِبُّ الْمَخِيلَةَ وَإِنِ امْرُؤٌ شَتَمَكَ وَعَيَّرَكَ بِمَا يَعْلَمُ فِيكَ فَلاَ تُعَيِّرْهُ بِمَا تَعْلَمُ فِيهِ فَإِنَّمَا وَبَالُ ذَلِكَ عَلَيْهِ " .
আবু জুরায়্যি জাবির ইবনু সুলাইম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি এমন এক ব্যক্তিকে দেখেছি, যার কথা সবাই মেনে চলে এবং যা কিছু বলেন সবাই তা পালন করে। আমি বললাম, ইনি কে? তারা বললো, ইনি হলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। আমি দুইবার বললাম, আসসালামু আলাইক ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! তিনি বললেনঃ আসসালামু আলাইক বলো, কেননা আলাইকাস সালাম দ্বারা মৃত ব্যক্তিকে সালাম দেয়া হয়। বরং তুমি বলো, আসসালামু আলাইক।বর্ণনাকারী বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, আপনি কি আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেনঃ আমি সেই আল্লাহর রাসূল, যাকে তুমি বিপদে পড়ে ডাকলে তিনি তোমার বিপদ দূর করেন; দুর্ভিক্ষের সময়ে তাঁকে ডাকলে তিনি তোমার জন্য খাদ্যশস্য উৎপাদন করেন; ঘাস-পানিহীন মরু প্রান্তরে তোমার সওয়ারী হারিয়ে গেলে তাঁকে ডাকলে তিনি তোমার নিকট তা ফিরিয়ে দেন।বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁকে আমাকে উপদেশ প্রদানের অনুরোধ জানালাম। তিনি বললেনঃ তুমি কখনো কাউকে গালি দেবে না। বর্ণনাকারী বলেন, এর পরে আমি কখনো স্বাধীন, গোলাম, উট ও ছাগল কোন কিছুকেই গালি দেইনি।তিনি (ﷺ) বলেনঃ ভালো কাজে অবজ্ঞা প্রদর্শন করো না। তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে কথা বলাটা নিঃসন্দেহে ভালো কাজের অন্তর্ভুক্ত।তোমার কাপড় পায়ের নলার মাঝামাঝি পর্যন্ত উঠিয়ে রাখো, যদি এতে সন্তুষ্ট না হও তবে টাখনু পর্যন্ত রাখো। টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরা হতে সাবধান; কারণ তা করা অহংকারের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ অহংকার পছন্দ করেন না।কেউ যদি তোমার মধ্যকার জানা কোন দোষ উল্লেখ করে তোমাকে মন্দ কথা বলে এবং লজ্জিত করে তবে তুমি কিন্তু তাঁর জ্ঞাত দোষ উল্লেখ করে তাকে লজ্জা দেবে না। কেননা এর কৃতকর্মের প্রতিফল তাকে ভোগ করতেই হবে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪০৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আখলাক শেখান। প্রথমে তিনি সালামের সঠিক শব্দ শিখিয়েছেন—আলাইকাস সালাম নয়, বরং আসসালামু আলাইক বলতে বলেছেন। এরপর আল্লাহর কাছে দোয়া করার বিষয় উল্লেখ করে বলেন, বিপদ, দুর্ভিক্ষ বা হারানো সওয়ারির মতো অবস্থায় বান্দা আল্লাহকে ডাকলে আল্লাহ সহায়তা করেন। তারপর তিনি গালি না দিতে বলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি মানুষ তো দূরের কথা, উট-ছাগলকেও গালি দেননি। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) আরও বলেন, কোনো ভালো কাজকে ছোট মনে করো না; ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলাও ভালো কাজ। পোশাক টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে অহংকারের ভঙ্গি থেকেও সতর্ক করেছেন। আবার কেউ অপমান করলে পাল্টা অপমান না করার শিক্ষা দিয়েছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রে নবীজির শেখানো ভাষা অনুসরণ করা উচিত।
- কাউকে গালি দেওয়া থেকে নিজেকে বাঁচানো বড় আখলাক।
- হাসিমুখে কথা বলাও ভালো কাজের অন্তর্ভুক্ত।
- অন্যের দোষ তুলে পাল্টা লজ্জা দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
