৩০/৪. অধ্যায়ঃ
অশুভ লক্ষণ
লা সফর: সফর মাস নিয়ে ভুল ধারণার ব্যাখ্যা
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৯১৪
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৯১৪
قَالَ أَبُو دَاوُدَ قُرِئَ عَلَى الْحَارِثِ بْنِ مِسْكِينٍ وَأَنَا شَاهِدٌ، أَخْبَرَكُمْ أَشْهَبُ، قَالَ سُئِلَ مَالِكٌ عَنْ قَوْلِهِ " لاَ صَفَرَ " . قَالَ إِنَّ أَهْلَ الْجَاهِلِيَّةِ كَانُوا يُحِلُّونَ صَفَرَ يُحِلُّونَهُ عَامًا وَيُحَرِّمُونَهُ عَامًا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ صَفَرَ " .
ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইমাম মালিক (রহঃ)-কে নবী (ﷺ)-এর বাণী ‘লা সাফারা’ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তৎকালীন আরবের লোকেরা সফর মাসকে (যুদ্ধের জন্য) বৈধ ঘোষণা করতো। তারা উক্ত মাসকে এক বছর বৈধ এবং এক বছর নিষিদ্ধ গণ্য করতো। সেজন্য নবী (ﷺ) বলেনঃ কোন সফর নেই।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৯১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইমাম মালিক (রহঃ)-কে নবী صلى الله عليه وسلم-এর বাণী ‘লা সফর’ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, জাহিলি যুগে আরবের লোকেরা সফর মাসকে এক বছর বৈধ এবং আরেক বছর নিষিদ্ধ গণ্য করত। তারা নিজেদের মতো করে মাসের হুকুম বদলাত। তাই নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, ‘সফর নেই’—অর্থাৎ তাদের সেই ভুল ধারণা ও আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। এই বর্ণনাটি সফর মাস নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক। এখানে মূল শিক্ষা হলো, মাসকে নিজের ইচ্ছায় শুভ-অশুভ বা বৈধ-অবৈধ বানানো ঠিক নয়। সময়, মাস ও ঘটনা আল্লাহর নিয়মের অধীন। মুসলিমের উচিত শরীয়তের নির্দেশ মানা, মানুষের বানানো কুসংস্কার নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফর মাস নিয়ে জাহিলি যুগের ভুল ধারণা ছিল।
- মানুষ নিজের ইচ্ছায় কোনো মাসকে বৈধ-অবৈধ বানাতে পারে না।
- মাসকে অশুভ বা বিশেষ ভয়ের কারণ মনে করা ঠিক নয়।
- শরীয়তের নির্দেশকে মানুষের বানানো রীতির উপর প্রাধান্য দিতে হবে।
