৩০/৩. অধ্যায়ঃ
মাটিতে রেখা টেনে এবং পাখি উড়িয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা
আল-ইয়াফা ও আত-তারক: কুসংস্কারের ব্যাখ্যা
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৯০৮
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৯০৮
حَدَّثَنَا ابْنُ بَشَّارٍ، قَالَ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ عَوْفٌ الْعِيَافَةُ زَجْرُ الطَّيْرِ وَالطَّرْقُ الْخَطُّ يُخَطُّ فِي الأَرْضِ .
‘আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
“আল-ইয়াফা” হচ্ছে শুভ-অশুভ লক্ষণ নির্ণয়ের জন্য পাখি ওড়ানো, এবং “আত-তারক” হচ্ছে মাটিতে দাগ টেনে শুভ-অশুভ নির্ণয় করা।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৯০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আগের হাদিসে আসা দুটি শব্দের অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ‘আল-ইয়াফা’ বলতে শুভ-অশুভ লক্ষণ জানার জন্য পাখি ওড়ানো বা পাখির গতিবিধি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভ্যাস বোঝানো হয়েছে। আর ‘আত-তারক’ বলতে মাটিতে দাগ টেনে কোনো শুভ বা অশুভ ফল বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। এই সংক্ষিপ্ত বর্ণনাটি কুসংস্কারের ধরন চেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় মানুষ নাম, দাগ, পাখি, সংখ্যা বা অদ্ভুত লক্ষণ দেখে সিদ্ধান্ত নিতে চায়। কিন্তু এই বর্ণনা দেখায়, এসব পদ্ধতি ইসলামের সরল তাওহীদী বিশ্বাসের সাথে যায় না। তাই মুসলিমের জন্য দরকার আল্লাহর উপর ভরসা, সঠিক জ্ঞান এবং পরিষ্কার সিদ্ধান্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল-ইয়াফা হলো পাখি দিয়ে শুভ-অশুভ বুঝতে চাওয়ার পদ্ধতি।
- আত-তারক হলো মাটিতে দাগ টেনে লক্ষণ নির্ণয়ের চেষ্টা।
- কুসংস্কারের নাম ও ধরন জানা থাকলে তা থেকে বাঁচা সহজ হয়।
- সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অদৃশ্য লক্ষণের উপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
