৩০/৩. অধ্যায়ঃ
মাটিতে রেখা টেনে এবং পাখি উড়িয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা
শুভ-অশুভ নির্ণয়ে কুসংস্কারের কঠোর নিষেধ
সুনানে আবু দাউদ : ৩৯০৭
সুনানে আবু দাউদহাদিস নম্বর ৩৯০৭
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَوْفٌ، حَدَّثَنَا حَيَّانُ، - قَالَ غَيْرُ مُسَدَّدٍ حَيَّانُ بْنُ الْعَلاَءِ - حَدَّثَنَا قَطَنُ بْنُ قَبِيصَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " الْعِيَافَةُ وَالطِّيَرَةُ وَالطَّرْقُ مِنَ الْجِبْتِ " . الطَّرْقُ الزَّجْرُ وَالْعِيَافَةُ الْخَطُّ .
কাতান ইবনু কাবীসাহ (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি: পাখির সাহায্যে ভাল-মন্দ নির্ণয় করা, কোন কিছুকে অশুভ লক্ষণ ভাবা এবং মাটিতে রেখা টেনে শুভ-অশুভ নির্ণয় করা কুফুরি। ‘আত-তারক’ হচ্ছে কংকর নিক্ষেপ করে অশুভ লক্ষণ নির্ণয় করা। ‘আল-ইয়াফা’ হচ্ছে মাটিতে দাগ টেনে শুভ-অশুভ নির্ণয় করা।
[৩৯০৭] আহমাদ। সানাদের হাইয়ান ইবনুল ‘আলা সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ মাজহুল।
সুনানে আবু দাউদ হাদিস ৩৯০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তিন ধরনের কুসংস্কারের কথা বলেছেন—পাখির সাহায্যে ভাল-মন্দ নির্ণয়, কোনো কিছুকে অশুভ লক্ষণ ভাবা এবং মাটিতে রেখা টেনে শুভ-অশুভ নির্ণয় করা। হাদিসে এগুলোকে ‘জিবত’ বলা হয়েছে। বর্ণনায় আরও ব্যাখ্যা এসেছে, ‘আত-তারক’ হলো কংকর নিক্ষেপ বা এমন পদ্ধতিতে অশুভ লক্ষণ নির্ণয় করা, আর ‘আল-ইয়াফা’ হলো মাটিতে দাগ টেনে শুভ-অশুভ বোঝার চেষ্টা। মূল শিক্ষা হলো, মুসলিমের সিদ্ধান্ত আল্লাহর উপর ভরসা, সঠিক কারণ এবং বৈধ জ্ঞানের উপর দাঁড়াবে; কুসংস্কার, পাখি উড়ানো বা রেখা টানার উপর নয়। এই হাদিস কুলক্ষণ বিশ্বাস, ভাগ্য গণনা এবং অযৌক্তিক লক্ষণ নির্ভরতা থেকে দূরে থাকার স্পষ্ট নির্দেশ দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পাখি দিয়ে শুভ-অশুভ নির্ণয় করা কুসংস্কারের অন্তর্ভুক্ত।
- মাটিতে রেখা টেনে ভাগ্য বা লক্ষণ বোঝার চেষ্টা হাদিসে নিন্দিত হয়েছে।
- কুলক্ষণ বিশ্বাস ঈমানের বিশুদ্ধতার জন্য ক্ষতিকর।
- মুসলিমের ভরসা আল্লাহর উপর হওয়া উচিত, লক্ষণ বা অনুমানের উপর নয়।
