২৯/১৯. অধ্যায়ঃ
ঝাড়ফুঁক করার পদ্ধতি
মুআব্বিজাত পড়ে ফুঁ দেওয়ার সুন্নতি শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৯০২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৯০২
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا اشْتَكَى يَقْرَأُ فِي نَفْسِهِ بِالْمُعَوِّذَاتِ وَيَنْفُثُ فَلَمَّا اشْتَدَّ وَجَعُهُ كُنْتُ أَقْرَأُ عَلَيْهِ وَأَمْسَحُ عَلَيْهِ بِيَدِهِ رَجَاءَ بَرَكَتِهَا .
নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন ব্যথা অনুভব করলে তিনি নিজেই ‘মুআব্বিজাত’ সূরাগুলো (অর্থাৎ সূরা নাস ও ফালাক) পড়ে ফুঁ দিতেন। ব্যথা বৃদ্ধি পেলে আমি তা পড়ে তাঁর হাতে ফুঁ দিয়ে তা তাঁর ব্যথার স্থানে বুলিয়ে দিতাম বরকত লাভের আশায়।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৯০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে অসুস্থতা ও ব্যথার সময় রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم কী করতেন, তা খুব সহজভাবে এসেছে। তিনি কোনো ব্যথা অনুভব করলে নিজেই মুআব্বিজাত সূরা পড়তেন এবং ফুঁ দিতেন। মুআব্বিজাত বলতে এখানে সূরা ফালাক ও সূরা নাস বোঝানো হয়েছে। ব্যথা বেশি হলে আয়িশা (রাঃ) তা পড়ে নবী صلى الله عليه وسلم-এর হাতে ফুঁ দিতেন, তারপর তাঁর হাত ব্যথার স্থানে বুলিয়ে দিতেন। তিনি এতে বরকত আশা করতেন। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, রোগ-ব্যথার সময় আল্লাহর কালাম পড়া, ফুঁ দেওয়া এবং আল্লাহর কাছে আরোগ্যের আশা করা ঈমানদারের আচরণের অংশ। তবে হাদিসটি শুধু এই নির্দিষ্ট আমলই জানাচ্ছে; অতিরিক্ত দাবি বা নিশ্চিত ফলের কথা এখানে বলা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ব্যথা হলে মুআব্বিজাত পড়ে ফুঁ দেওয়ার আমল এই হাদিসে এসেছে।
- রোগের সময় আল্লাহর কালাম দিয়ে সাহায্য চাওয়া উত্তম পথ।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর হাতে ফুঁ দিয়ে ব্যথার স্থানে বুলানোর ঘটনা বরকতের আশার সাথে যুক্ত।
- রুকইয়ার ক্ষেত্রে ভরসা আল্লাহর উপর রাখা উচিত।
