২৯/১৯. অধ্যায়ঃ
ঝাড়ফুঁক করার পদ্ধতি
সূরা ফাতিহা দিয়ে রুকইয়াহ ও বিনিময়ের হাদিস
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৯০০
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৯০০
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَهْطًا، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم انْطَلَقُوا فِي سَفْرَةٍ سَافَرُوهَا فَنَزَلُوا بِحَىٍّ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ فَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّ سَيِّدَنَا لُدِغَ فَهَلْ عِنْدَ أَحَدٍ مِنْكُمْ شَىْءٌ يَنْفَعُ صَاحِبَنَا فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ نَعَمْ وَاللَّهِ إِنِّي لأَرْقِي وَلَكِنِ اسْتَضَفْنَاكُمْ فَأَبَيْتُمْ أَنْ تُضَيِّفُونَا مَا أَنَا بِرَاقٍ حَتَّى تَجْعَلُوا لِي جُعْلاً . فَجَعَلُوا لَهُ قَطِيعًا مِنَ الشَّاءِ فَأَتَاهُ فَقَرَأَ عَلَيْهِ أُمَّ الْكِتَابِ وَيَتْفُلُ حَتَّى بَرَأَ كَأَنَّمَا أُنْشِطَ مِنْ عِقَالٍ . قَالَ فَأَوْفَاهُمْ جُعْلَهُمُ الَّذِي صَالَحُوهُمْ عَلَيْهِ فَقَالُوا اقْتَسِمُوا . فَقَالَ الَّذِي رَقَى لاَ تَفْعَلُوا حَتَّى نَأْتِيَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَسْتَأْمِرَهُ . فَغَدَوْا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرُوا لَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مِنْ أَيْنَ عَلِمْتُمْ أَنَّهَا رُقْيَةٌ أَحْسَنْتُمُ اقْتَسِمُوا وَاضْرِبُوا لِي مَعَكُمْ بِسَهْمٍ " .
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর একদল সাহাবী একটি স্থানের দিকে সফরে বের হলেন। পথে আরব বেদুঈনদের এক জনপদে তারা যাত্রাবিরতি করলে তাদের কেউ এসে বললো, আমাদের নেতাকে বিষাক্ত প্রাণী দংশন করেছে। তোমাদের কারো এমন কিছু জানা আছে কি যাতে তাঁর উপকার হয়?সফরকারী দলের একজন বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আমি ঝাড়ফুঁক করি। কিন্তু আমরা তোমাদের নিকট আতিথেয়তা চেয়েছিলাম, তোমরা তা অস্বীকার করেছ। কাজেই তোমরা আমার জন্য বিনিময় নির্ধারণ না করলে আমি ঝাড়ফুঁক করব না। সুতরাং তারা একপাল ছাগল দেয়ার চুক্তি করলো। তিনি রোগীর নিকট এসে সূরা ফাতিহা পাঠ করে থুথু ছিটিয়ে দিলেন। সে সুস্থ হয়ে উঠলো, মনে হলো যেন সে বন্দীর শিকল হতে মুক্তি পেয়েছে।বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তারা চুক্তি মোতাবেক সব বিনিময় প্রদান করলো। দলের কয়েকজন বললো, এগুলো বণ্টন করে দাও। কিন্তু ঝাড়ফুঁককারী বললো, না, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গিয়ে এ ব্যাপারে তাঁর পরামর্শ না নেওয়া পর্যন্ত এরূপ করব না।অতঃপর তারা সকলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে তাঁকে ঘটনাটি জানালেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: এ সূরা দ্বারা যে ঝাড়ফুঁক করা যায় তা তোমরা কিভাবে জানলে? তোমরা ভালোই করেছ। এগুলো বণ্টন করে নাও এবং তোমাদের সঙ্গে আমাকেও একটি অংশ দিও।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৯০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাহাবীদের একটি সফরের ঘটনা এসেছে। তারা এক আরব জনপদে যাত্রাবিরতি করলে আতিথেয়তা চাইলেন, কিন্তু লোকেরা তা দিল না। পরে সেই জনপদের নেতাকে বিষাক্ত প্রাণী দংশন করলে তারা সাহায্য চায়। একজন সাহাবী বলেন, তিনি রুকইয়াহ করতে পারেন, তবে আগে তাদের সঙ্গে বিনিময় ঠিক করতে হবে। তারা একপাল ছাগলের চুক্তি করে। তিনি রোগীর কাছে গিয়ে সূরা ফাতিহা পড়ে ফুঁক দেন, ফলে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। এরপর সাহাবীরা বিনিময় নিয়ে সরাসরি ভাগ না করে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে জিজ্ঞেস করেন। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তারা ভালো করেছে, বিনিময় ভাগ করে নিতে পারে এবং তাঁর জন্যও একটি অংশ রাখতে বলেন। এই হাদিসে সূরা ফাতিহার রুকইয়াহ, চুক্তি পূরণ এবং ধর্মীয় বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূরা ফাতিহা দিয়ে রুকইয়াহ করার প্রমাণ এই হাদিসে এসেছে।
- চুক্তি হলে তা যথাযথভাবে পূরণ করা উচিত।
- সন্দেহ হলে আলেম বা নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশের দিকে ফিরে যেতে হয়।
- বৈধ রুকইয়াহর বিনিময় নেওয়ার অনুমতি এই বর্ণনায় পাওয়া যায়।
