২৭/৫. অধ্যায়ঃ
নেশা উদ্রেককারী প্রতিটি জিনিস হারাম
নেশা হলে অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়
সুনানে আবু দাউদ : ৩৬৮৩
সুনানে আবু দাউদহাদিস নম্বর ৩৬৮৩
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ مُحَمَّدٍ، - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ - عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مَرْثَدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْيَزَنِيِّ، عَنْ دَيْلَمٍ الْحِمْيَرِيِّ، قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا بِأَرْضٍ بَارِدَةٍ نُعَالِجُ فِيهَا عَمَلاً شَدِيدًا وَإِنَّا نَتَّخِذُ شَرَابًا مِنْ هَذَا الْقَمْحِ نَتَقَوَّى بِهِ عَلَى أَعْمَالِنَا وَعَلَى بَرْدِ بِلاَدِنَا . قَالَ " هَلْ يُسْكِرُ " . قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ " فَاجْتَنِبُوهُ " . قَالَ قُلْتُ فَإِنَّ النَّاسَ غَيْرُ تَارِكِيهِ . قَالَ " فَإِنْ لَمْ يَتْرُكُوهُ فَقَاتِلُوهُمْ " .
দায়লাম আল-হিম্যারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করলাম, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা শীতপ্রধান এলাকায় বসবাস করি। আমাদেরকে সেখানে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। আমরা গম হতে তৈরি মদ পান করে ক্লান্তি দূর করি ও শীত প্রতিরোধ করি। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ এতে কি নেশা সৃষ্টি হয়? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তবে এটা পরিহার করো। আমি বললাম, কিন্তু লোকেরা এটা পরিহার করবে না। তিনি বললেন, যদি তারা এটা পরিহার না করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো।
সুনানে আবু দাউদ হাদিস ৩৬৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে জানালেন যে তারা শীতপ্রধান এলাকায় থাকে, কঠোর পরিশ্রম করে এবং গম থেকে তৈরি পানীয় পান করে শক্তি পায় ও শীত সামলায়। নবী صلى الله عليه وسلم প্রথমেই প্রশ্ন করলেন—এতে কি নেশা সৃষ্টি হয়? যখন বলা হলো, হ্যাঁ, তখন তিনি বললেন—এটি পরিহার করো। এখানে শিক্ষা হলো, কোনো পানীয় কাজের ক্লান্তি দূর করুক বা শীতের কষ্ট কমাতে ব্যবহার করা হোক, যদি তা নেশা সৃষ্টি করে, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়। পরে যখন বলা হলো লোকেরা এটি ছাড়বে না, তখন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা এসেছে। হাদিসটি দেখায়, নেশা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়; সমাজেও তা গুরুতর বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কাজের শক্তি বা শীতের অজুহাত নেশাকারী পানীয়কে বৈধ করে না।
- কোনো পানীয় নেশা সৃষ্টি করলে তা পরিহার করতে হবে।
- নেশার ব্যাপারটি সমাজে ছড়ালে তা গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
