২৭/১. অধ্যায়ঃ
মদ হারাম হওয়ার বর্ণনা
মাতাল অবস্থায় সালাতের কাছে না যাওয়ার নির্দেশ
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৬৭১
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৬৭১
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، عَلَيْهِ السَّلاَمُ أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الأَنْصَارِ دَعَاهُ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَوْفٍ فَسَقَاهُمَا قَبْلَ أَنْ تُحَرَّمَ الْخَمْرُ فَأَمَّهُمْ عَلِيٌّ فِي الْمَغْرِبِ فَقَرَأَ { قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ } فَخَلَطَ فِيهَا فَنَزَلَتْ { لاَ تَقْرَبُوا الصَّلاَةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى حَتَّى تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ } .
‘আলী ইবনু আবূ ত্বালিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা আনসার গোত্রের এক লোক তাকে ও আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ)-কে দাওয়াত করে উভয়কে মদ পান করালেন তা হারাম হওয়ার পূর্বে। অতঃপর মাগরিবের সালাতে আলী (আঃ) তাদের ইমামতি করলেন। তিনি সূরা “কুল ইয়া আইয়ুহাল কাফিরুন” পাঠ করতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। অতঃপর এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন মাতাল অবস্থায় থাকো তখন সালাতের কাছেও যেও না। সালাত তখনই পড়বে, যখন তোমরা কি বলছো তা সঠিকভাবে বুঝতে পারো” (সূরা আন-নিসাঃ ৪৩)।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৬৭১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মদ হারাম হওয়ার আগের একটি ঘটনার কথা এসেছে। আনসার গোত্রের এক ব্যক্তি আলী (রাঃ) ও আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ)-কে দাওয়াত করে মদ পান করালেন। তখনও মদ হারাম হওয়ার চূড়ান্ত বিধান আসেনি। এরপর মাগরিবের সালাতে আলী (রাঃ) ইমামতি করলেন এবং সূরা কাফিরুন পড়তে গিয়ে ভুল করে ফেললেন। এই ঘটনার পর আয়াত নাযিল হলো: হে ঈমানদারগণ, তোমরা মাতাল অবস্থায় সালাতের কাছে যেও না, যতক্ষণ না বুঝতে পারো কী বলছ। হাদিসটি দেখায়, সালাতে বুঝে পড়া কত গুরুত্বপূর্ণ। নেশা মানুষের মন, জ্ঞান ও তিলাওয়াতকে প্রভাবিত করে। তাই সালাতের মতো ইবাদতে সচেতনতা ও বুঝ থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মাতাল অবস্থায় সালাতের কাছে না যাওয়ার নির্দেশ এসেছে।
- সালাতে কী পড়া হচ্ছে তা বোঝার অবস্থায় থাকা জরুরি।
- নেশা তিলাওয়াত ও ইবাদতের মনোযোগ নষ্ট করে।
- আয়াত নাযিলের মাধ্যমে মুসলিমদের ধাপে ধাপে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
