২৫/২. অধ্যায়ঃ
বিচারক ভুল করলে
বিচারক তিন প্রকার: ন্যায় ও যুলুমের শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৫৭৩
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৫৭৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَسَّانَ السَّمْتِيُّ، حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ خَلِيفَةَ، عَنْ أَبِي هَاشِمٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْقُضَاةُ ثَلاَثَةٌ وَاحِدٌ فِي الْجَنَّةِ وَاثْنَانِ فِي النَّارِ فَأَمَّا الَّذِي فِي الْجَنَّةِ فَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَقَضَى بِهِ وَرَجُلٌ عَرَفَ الْحَقَّ فَجَارَ فِي الْحُكْمِ فَهُوَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ قَضَى لِلنَّاسِ عَلَى جَهْلٍ فَهُوَ فِي النَّارِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذَا أَصَحُّ شَىْءٍ فِيهِ يَعْنِي حَدِيثَ ابْنِ بُرَيْدَةَ " الْقُضَاةُ ثَلاَثَةٌ " .
ইবনু বুরাইদাহ (রাঃ) হতে তার পিতার সুত্র হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ বিচারক তিন প্রকার। এক প্রকার বিচারক জান্নাতী এবং অপর দুই প্রকার বিচারক জাহান্নামী। জান্নাতী বিচারক হলো, যে সত্যকে বুঝে তদনুযায়ী ফায়সালা দেয়। আর যে বিচারক সত্যকে জানার পর স্বীয় বিচারে যুলুম করে সে জাহান্নামী এবং যে বিচারক অজ্ঞতা প্রসূত ফায়সালা দেয় সেও জাহান্নামী। ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, এ বিষয়ে উপরোক্ত হাদিসটি অধিক সহিহ, অর্থাৎ ইবনু বুরায়দাহর হাদিস – বিচারক তিন শ্রেণীর।
[৩৫৭৩] নাসায়ী, ইবনু মাজাহ।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৫৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم বিচারকদের তিন ভাগে ভাগ করেছেন। এক প্রকার বিচারক জান্নাতী, আর দুই প্রকার বিচারক জাহান্নামী। জান্নাতী বিচারক হলো সে, যে সত্য বুঝে এবং সেই সত্য অনুযায়ী ফয়সালা দেয়। দ্বিতীয় হলো সে, যে সত্য জানার পরও নিজের বিচারে যুলুম করে; সে জাহান্নামী। তৃতীয় হলো সে, যে অজ্ঞতা নিয়ে মানুষের জন্য ফয়সালা দেয়; সেও জাহান্নামী। এই হাদিস বিচারকের দায়িত্বকে আরও পরিষ্কার করে। শুধু পদে বসা যথেষ্ট নয়। সত্য জানা, সত্য মেনে বিচার করা এবং অজ্ঞতা থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। আবু দাউদ (রহঃ) এ বিষয়ে ইবনু বুরায়দাহর হাদিসকে বেশি সহিহ বলেছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সত্য বুঝে সেই অনুযায়ী ফয়সালা দেওয়া বিচারকের বড় গুণ।
- সত্য জানার পর যুলুম করা কঠিন পরিণতির কারণ।
- অজ্ঞতা নিয়ে বিচার করা বিপজ্জনক।
- বিচার করার আগে জ্ঞান ও ন্যায়ের প্রয়োজন আছে।
