২০/৩১. অধ্যায়ঃ
আগুন-পূজারীদের কাছ থেকে জিযিয়া আদায়
মাজুসদের জিযিয়া: উমর (রাঃ)-এর সিদ্ধান্ত ও সাক্ষ্য
সুনানে আবূ দাউদ : ৩০৪৩
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩০৪৩
حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، سَمِعَ بَجَالَةَ، يُحَدِّثُ عَمْرَو بْنَ أَوْسٍ وَأَبَا الشَّعْثَاءِ قَالَ كُنْتُ كَاتِبًا لِجَزْءِ بْنِ مُعَاوِيَةَ عَمِّ الأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ إِذْ جَاءَنَا كِتَابُ عُمَرَ قَبْلَ مَوْتِهِ بِسَنَةٍ اقْتُلُوا كُلَّ سَاحِرٍ وَفَرِّقُوا بَيْنَ كُلِّ ذِي مَحْرَمٍ مِنَ الْمَجُوسِ وَانْهَوْهُمْ عَنِ الزَّمْزَمَةِ فَقَتَلْنَا فِي يَوْمٍ ثَلاَثَةَ سَوَاحِرَ وَفَرَّقْنَا بَيْنَ كُلِّ رَجُلٍ مِنَ الْمَجُوسِ وَحَرِيمِهِ فِي كِتَابِ اللَّهِ وَصَنَعَ طَعَامًا كَثِيرًا فَدَعَاهُمْ فَعَرَضَ السَّيْفَ عَلَى فَخِذِهِ فَأَكَلُوا وَلَمْ يُزَمْزِمُوا وَأَلْقَوْا وِقْرَ بَغْلٍ أَوْ بَغْلَيْنِ مِنَ الْوَرِقِ وَلَمْ يَكُنْ عُمَرُ أَخَذَ الْجِزْيَةَ مِنَ الْمَجُوسِ حَتَّى شَهِدَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَهَا مِنْ مَجُوسِ هَجَرَ .
বাজালা (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ছিলাম আহনাফ ইবনু কায়িসের চাচা জাযই ইবনু মুয়াবিয়ার সচিব। উমর (রাঃ) মৃত্যুর এক বছর পূর্বে তার লেখা একটি পত্র আমাদের কাছে আসে। পত্রের বিষয়বস্তু এরূপঃ ‘‘প্রত্যেক যাদুকরকে হত্যা করবে, প্রত্যেক মহরিম অগ্নিপূজারী স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ ছিন্ন করবে এবং তাদেরকে জমজমা থেকে বিরত রাখবে।’’অতঃপর আমরা একদিনে তিনজন জাদুকর হত্যা করি এবং আল্লাহর কিতাবে বিধিবদ্ধ প্রতিটি অগ্নিপূজারী পুরুষ ও তার মহরিম স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করি।বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (জাযই) অনেক খাবার তৈরি করে অগ্নিপূজারীদের ডাকলেন। তিনি তার রানের উপর তরবারি রাখলেন। তারা খাবার খেলো কিন্তু গুনগুন শব্দ করল না। তারা একটি কিংবা দুটি খচ্চর বোঝাই রূপা দিলো। কিন্তু উমর (রাঃ) কখনো অগ্নিপূজারীদের কাছ থেকে জিযিয়া নেননি।অতঃপর আবদুর রহমান ইবনুউফ (রাঃ) যখন সাক্ষী দেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘হাজার’ এলাকার অগ্নিপূজারীদের কাছ থেকে জিযিয়া গ্রহণ করেছেন তখন তিনি তা গ্রহণ করলেন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩০৪৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমর (রাঃ)-এর একটি পত্রের কথা এসেছে। পত্রে জাদুকরদের হত্যা, অগ্নিপূজারীদের মহরিম বিবাহ ছিন্ন করা এবং তাদের জমজমা থেকে বিরত রাখার নির্দেশ ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, তারা একদিনে তিনজন জাদুকর হত্যা করেন এবং অগ্নিপূজারী পুরুষ ও তার মহরিম স্ত্রীর সম্পর্ক ছিন্ন করেন। এখানে ‘জিযিয়া’, ‘মাজুস’ এবং ‘অগ্নিপূজারী বিধান’ মূল আলোচনার বিষয়। গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, উমর (রাঃ) প্রথমে অগ্নিপূজারীদের কাছ থেকে জিযিয়া নেননি। পরে আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) সাক্ষ্য দেন যে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) হাজার এলাকার মাজুসদের কাছ থেকে জিযিয়া গ্রহণ করেছেন। এরপর সেই সাক্ষ্যের ভিত্তিতে জিযিয়া গ্রহণ করা হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ধর্মীয় ও সামাজিক বিধানে নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ।
- উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলের প্রমাণ পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেন।
- মাজুসদের জিযিয়া বিষয়ে এই হাদিসে বিশেষ দলিল এসেছে।
- মহরিম সম্পর্কের বিবাহ ইসলামি বিধানে গ্রহণযোগ্য নয়—এ কথা পাঠে স্পষ্ট হয়।
