২০/৩০. অধ্যায়ঃ

জিযিয়া আদায় সম্পর্কে

বনী তাগলিব বর্ণনা ও মুনকার হাদিসের সতর্কতা

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩০৪০

حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْعَظِيمِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ هَانِئٍ أَبُو نُعَيْمٍ النَّخَعِيُّ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ، عَنْ زِيَادِ بْنِ حُدَيْرٍ، قَالَ قَالَ عَلِيٌّ لَئِنْ بَقِيتُ لِنَصَارَى بَنِي تَغْلِبَ لأَقْتُلَنَّ الْمُقَاتِلَةَ وَلأَسْبِيَنَّ الذُّرِّيَّةَ فَإِنِّي كَتَبْتُ الْكِتَابَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَنْ لاَ يُنَصِّرُوا أَبْنَاءَهُمْ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَذَا حَدِيثٌ مُنْكَرٌ بَلَغَنِي عَنْ أَحْمَدَ أَنَّهُ كَانَ يُنْكِرُ هَذَا الْحَدِيثَ إِنْكَارًا شَدِيدًا وَهُوَ عِنْدَ بَعْضِ النَّاسِ شِبْهُ الْمَتْرُوكِ وَأَنْكَرُوا هَذَا الْحَدِيثَ عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هَانِئٍ قَالَ أَبُو عَلِيٍّ وَلَمْ يَقْرَأْهُ أَبُو دَاوُدَ فِي الْعَرْضَةِ الثَّانِيَةِ ‏.‏

যিয়াদ ইবনু হুদাইর (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আলী (রাঃ) বলেছেন, আমি বেঁচে থাকলে খ্রিস্টান বনী তাগলিবের যুদ্ধবাজ লোকদের অবশ্যই হত্যা করবো এবং তাদের সন্তানদের বন্দী করবো। কারণ আমি তাদের ও নবী (ﷺ)-এর মধ্যে এ মর্মে চুক্তিপত্র লিখেছিলাম যেঃ “তারা তাদের সন্তানদের খ্রিস্টান বানাবে না।” আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদিসটি মুনকার (প্রত্যাখ্যাত)। আমি জানতে পেরেছি, ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) হাদিসটি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যাত করেছেন। কারো মতে এটা মাতরূক হাদিসের পর্যায়ে। অধস্তন বর্ণনাকারী আবদুর রহমান ইবনু হানী কারণে লোকেরা একে মুনকার হাদিস মনে করতেন। আবু আলী বলেন, আবু দাউদ (রহঃ) যখন সংকলন দ্বিতীয়বার শুনান, তখন তিনি এতে উল্লেখিত হাদিসটি পাঠ করেননি।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩০৪০-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় আলী (রাঃ)-এর নামে বনী তাগলিবের খ্রিস্টানদের বিষয়ে কঠোর বক্তব্য এসেছে। তিনি বলেন, তিনি বেঁচে থাকলে তাদের যুদ্ধবাজ লোকদের হত্যা করবেন এবং সন্তানদের বন্দী করবেন; কারণ তিনি তাদের ও নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর মধ্যে এমন চুক্তি লিখেছিলেন যে, তারা তাদের সন্তানদের খ্রিস্টান বানাবে না। কিন্তু এই হাদিসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আবু দাউদ (রহঃ)-এর মন্তব্য। তিনি বলেন, এটি মুনকার হাদিস। তিনি আরও জানান, ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) এটিকে খুব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। কারো মতে এটি মাতরূক পর্যায়ের কাছাকাছি। আবদুর রহমান ইবনু হানীর কারণে লোকেরা একে মুনকার মনে করতেন। তাই এই হাদিস থেকে সরাসরি বিধান নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় সতর্কতা দরকার। ব্যাখ্যায় মূল জোর থাকা উচিত হাদিসের দুর্বলতা ও আবু দাউদের সতর্ক মন্তব্যের উপর।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • এই বর্ণনা সম্পর্কে আবু দাউদ (রহঃ) স্পষ্টভাবে মুনকার মন্তব্য করেছেন।
  • ইমাম আহমাদ (রহঃ)-এর কঠোর প্রত্যাখ্যানের কথাও উল্লেখ আছে।
  • দুর্বল বা মুনকার বর্ণনা থেকে তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
  • হাদিসের সঙ্গে থাকা মুহাদ্দিসের মন্তব্য বুঝে পড়া জরুরি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন